শিবগঞ্জ এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আজিজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষের পাশাপাশি মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।তিনি এখানে যোগদানের পর থেকে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) রক্ষা, কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন এবং রাস্তাঘাট নস্ট ও পরিবেশ দুষণ করে মাটি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করে আসছেন।যা একটি প্রভাবশালী মাটি খেকো সংঘবদ্ধ চক্র মেনে নিতে পারছে না।
স্থানীয় সুত্র বলছে,মাটিখেকো একটি সংঘবদ্ধ চক্র অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।
সম্প্রতি, পদ্মা নদী থেকে বৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের একজন পেশকার কাম সায়রাত সহকারীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,পেশকার ঘটনা স্থলে উপস্থিত হওয়া মাত্রই, আগে থেকেই ওঁতপেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে সে ২০ হাজার চাঁদা চাই বলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ভিডিও ধারণ করে, বলতে থাকেন ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয় যে, ঘটনার ৫ মিনিটের মধ্যেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এদিন ঘটনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারা উভয়েই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে এটা বানোয়াট,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা বলেন এ বিষয়টা পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন,এমনকি এবিষয়ে তারা ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তারা বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও ভরাট কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং সংঘবদ্ধ
চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হলে,প্রভাবশালীরা প্রশাসনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ও তাদের অভিযানে নিরুৎসাহিত করতেই উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার শুরু করে।এদিকে উপজেলা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে সত্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,তারা
মাটি, ভরাট পরিবহনের কারণে ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ, ও অসুস্থ লোকজন নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না, বাড়িঘর ধুলায় ঠিক রাখতে পারি না ও রাস্তাঘাটে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারি না এবং প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার ছোট বাচ্চাসহ পথচারীরা।অবৈধ ট্রাক্টরের বিকট শব্দ ও ধুলাবালিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।অথচ তাদের
কিছু বলতে গেলেই সিন্ডিকেটের হাতে তাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়।এলাকাবাসীর দাবি পদ্মা নদী ভাঙন রোধে এক গাড়ি মাটিও যেন না তুলতে পারে সেজন্য কঠিন নজরদারীসহ প্রতিনিয়ত জোরদার অভিযান চালানো হোক ।