প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা-স্বর্ণ নিয়ে বাড়ি ছাড়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

দৌলতপুর( কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন—এমন অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন প্রবাসীর বাবা। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সহিদুল ইসলাম সরকার জানান, তার ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম মনি সরকার দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় ছয় বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মোছা. সোরভী আক্তারের সঙ্গে তার ছেলের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ছেলে বিদেশে থাকার সুযোগে সোরভী আক্তার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গত ১৭ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান।

অভিযোগকারীর দাবি, যাওয়ার সময় তিনি স্বামীর গচ্ছিত নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং নিজের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সহিদুল ইসলাম সরকার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, তার পুত্রবধূ সংসার না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় সোরভী আক্তার, তার বাবা মো. আনারুল ইসলাম, মা মোছা. শিউলী খাতুন এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সহিদুল ইসলাম সরকার বলেন, “থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমার পুত্রবধূ দৌলতপুর উপজেলার মসলেমপুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে বলে আশা করছি।”

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।