ঘোড়াঘাটে ফুটপাতহীন আঞ্চলিক মহাসড়ক, যানজট ও জনভোগান্তি চরমে

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র রানীগঞ্জ হাট বাজার, কানাগাড়ী এবং ঘোড়াঘাট পৌরসভার বাগেরহাট বাজারে ফুটপাত না থাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে জনভোগান্তি চরমে। সড়কের দুই পাশে রাস্তা ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকানপাট, দোকানের সামনে মালামাল রাখা, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা ও অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে ব্যস্ত এ সড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রানীগঞ্জ হাট-বাজারসহ কানাগাড়ী বাজার ও বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের একেবারে সড়ক ঘেঁষে বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোথাও কোথাও রয়েছে স্থায়ী দোকানপাট ও বাড়িঘর। আবার অনেক দোকানের সামনে বিভিন্ন ধরনের মালামাল রাখা হয়েছে। এতে সড়কের প্রশস্ততা কার্যত কমে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার  এসব হাট বাজারের ওপর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করলেও পথচারীদের নির্বিঘ্নে হাঁটার জন্য নেই পর্যাপ্ত ফুটপাত। ফলে পথচারীদের মহাসড়কের মূল অংশ দিয়েই চলাচল করতে হয়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে পথচারীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী মহাসড়কের ভূমির প্রান্তসীমা হতে পরবর্তী ১০ মিটার বা ৩৩ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না এমন আইন ও নির্দেশনা থাকলেও উপজেলার একটি হাটেও এরকম কোন নিয়মই মানা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানের সামনের অংশ কাদামুক্ত রাখতে কোথাও কোথাও মাটি ভরাট করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে না পেরে মহাসড়কের ওপর জমে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বাজারের এলাকার কিছু কিছু জায়গায় ড্রেনের ওপর স্লাব দিয়ে তৈরি করা পথ থাকলেও সেখানেও ভ্রাম্যমাণ দোকান ও পাশের স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখা হয়। ফলে পথচারীদের জন্য থাকা জায়গাটুকুও অনেক সময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
তাদের দাবি, মহাসড়কের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলমুক্ত রাখা, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত নির্মাণ এবং নির্দিষ্ট স্থানে ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোভ্যান স্ট্যান্ড করে জন দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
এ নিয়ে একাধিক পথচারী অভিযোগ বলেন, বাজার এলাকায় ফুটপাত না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের পাশ দিয়ে চলতে গিয়ে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন,
অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও জনপ্রতিনিধিদের তদারকি করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা যথাযথভাবে পালন করা হয় না।”
সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সরাসরি উচ্ছেদে যাওয়ার আগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করা হবে। এরপরও যদি তারা সরে না যায়, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টির সচিত্র তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। ঘোড়াঘাট ও রানীগঞ্জ হাট বাজার সহ ভাদুরিয়া এলাকায় মহাসড়ক ঘেঁষে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিএনজি, অটোরিকশা ও বাইক পার্কিং করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা উর্ধতন কতৃপক্ষ সহ মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার আগে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে সার্ভে ও সীমানা মাপজোখের কাজ শুরু করেছি।”
মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে এবং পরবর্তীতে সরাসরি উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।