ডা. খান ইফতেখার, মিরপুর, ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বৃহত্তর মিরপুর পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে মিরপুর মন্দিরের সম্মুখে পালিত হয় “শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব- ২০২৬”। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। তিনি জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মির আহমাদ বিন কাশেম এমপি। তিনি জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেই সব ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল কুমার কুরি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিলেন মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দোলা মজুমদার।

উৎসবকে কেন্দ্র করে মিরপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে পুরো আয়োজনে।

উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও ঢাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।