ভেড়ামারায় তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সাবেক স্বামী আটক
হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধর্ষণের
অভিযোগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুনী চারদিন পর মারা গেছেন।এটা ধর্ষণ নাকি পরিকল্পিত হত্যা এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি ধর্ষণের ফলেই মৃত্যু হয়েছে তার। পুলিশ বলছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পরেই বিষয়টি ক্লিয়ার হবে।
গত শুক্রবার(১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী তরুণীর মৃত্যু হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার,এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভুক্তভোগী তরুণী তার চাচার বিয়ে উপলক্ষে কেনাকাটা ও রূপচর্চার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফকিরাবাদ বাজারে শেলী কসমেটিক্স ও পার্লারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে বাঙ্গালপাড়া এলাকার শাহিনের ছেলে রাসেল তাকে মোটরসাইকেল যোগে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ সময় তার সাথে তার সাবেক স্বামী আবু বক্করসহ ২-৩ জনের যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা। তার পরিবার জানায়, উল্লেখিত আবু বক্করের সাথে ভুক্তভোগীর তিন মাস আগে ডিভোর্স হয়ে যায়।ভুক্তভোগীকে তুলে নেয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকে এলাকার পার্শ্ববর্তী বিলের মাঠে মোটরসাইকেল যোগে তাদের ফেলে যেতে দেখে এলাকাবাসী। এ সময় এলাকাবাসী মেয়েটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করায়।
এরপর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ঘটনার চারদিন পর গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টা ৪০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগীকে সড়ক দুর্ঘটনা ও বমির কারণ উল্লেখ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার পরেরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা রেফার্ড করেছিলাম।
ভেড়ামারা থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মইনুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় সাবেক স্বামী আবু বক্কর, রাসেলসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করে। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারামারির কথা উল্লেখ রয়েছে।
‘
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,”ভুক্তভোগীর মা ও নানী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন,ভুক্তভোগী নিজেই তাদের বলেছেন, ৩-৪ জন মিলে নাকি তাকে ধর্ষণ করেছে।” তিনি আরও বলেন, ‘এদিকে মেয়ের বাবা ভেড়ামারা থানায় পূর্ব শত্রুতার অভিযোগে মারার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি আমরা সঠিক তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।
এ ঘটনায় তাঁর পূর্বের স্বামী আবু বক্কর গ্রেপ্তার রয়েছে। সন্দেহভাজন আরও একজনের পরিচয় পেয়েছি।আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”