দৌলতপুরে বন্যার্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল বিজিবি

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪৫০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের খারিজাথাক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব এলাকায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ৪৭ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এতে নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ৪৫০ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মধ্যে ৪৭ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪০০ কেজি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া চলতি বছরের ৯ মে দৌলতপুরের দুর্গম এলাকায় আরও একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে ৪৭ বিজিবি। ওই ক্যাম্পে ৩৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, পিবিজিএম, বিজিওএম, পিএসসি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষার কাজে নিয়োজিত নয়; সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্যোগ, সংকট ও প্রয়োজনের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে স্থানীয়রা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্গম ও যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে এসেছে।