ভুয়া ফেসবুক আইডি সনাক্ত ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহনে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রাজশাহী প্রেসক্লাবের

 

রাজশাহী ব্যুরো: ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সদস্যদের এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, যানজটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে চলমান অপপ্রচার।


সভায় সাংবাদিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া “গোপন তথ্য উদঘাটন” ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রেসক্লাবের সদস্যসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
জবাবে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধের তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের কিছু বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম মেটা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মেটার আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকায় তদন্তের প্রয়োজনে সব তথ্য পাওয়া যায় না বলে তিনি জানান।

মতবিনিময়ের সময় সাংবাদিকরা ফেসবুকে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে কাজলা এলাকার কথিত সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানী, বিলসিমলা এলাকার পুলক ও আমবাগান এলাকার কাচুসহ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। সাংবাদিকরা মাসুদ রানা রাব্বানীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সভায় আরএমপি কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএ; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) চলতি দায়িত্বে ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (স্পেশাল ক্রাইম অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম; উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম; অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) শামিমা নাসরি; উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী এবং মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) গাজিউর রহমান।
পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রেসক্লাবের সদস্যরা নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকায় ‘জুলাই ৩৬’-এর সামনে অবস্থান নেন। সেখানে গণমাধ্যমের সামনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের নেতারা ও সদস্যরা।
এ সময় বক্তব্য দেন দৈনিক গণমুক্তির ব্যুরো প্রধান ও প্রেসক্লাব সদস্য মাজহারুল ইসলাম চপল, দৈনিক উপচার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলন, দৈনিক ভোরের কাগজের রাজশাহী প্রতিনিধি ও ক্লাবের নির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং দৈনিক দিনকাল পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ও প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুস সবুর।

বক্তব্যে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, প্রেসক্লাব বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবে না। যারা তার ও প্রেসক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন, তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার চালালেও কেউ শনাক্ত করতে পারবে না, এমনটি ভাবার কারণ নেই। এ সময় তিনি অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হলে তা শুধু একজন সাংবাদিককে হেয় করা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে এসব আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।