বদলির আদেশ জারির দীর্ঘ দিন পার হলেও এক অদৃশ্য সুতার টানে নিজ কর্মস্থলেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সাত কারারক্ষী। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের কর্মস্থলে টিকিয়ে রাখার পেছনে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের আদেশের অবমাননা এবং স্থানীয় জেল প্রশাসনের চরম খামখেয়ালিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) মোহাম্মদ ছগির মিয়ার স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত ১৩ সেপ্টেম্বর (২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সাত কারারক্ষীকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, কারারক্ষী জুয়েল মিয়াকে বান্দরবান জেলা কারাগারে; পলাশ ঘোষ ও হাবিবুর রহমানকে রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারে; মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ জাহিদ আনোয়ারকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান চৌধুরী ও মোঃ মহিউদ্দিনকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারি বিধি মোতাবেক বদলির আদেশ জারির পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (রিলিজ) করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আদেশ জারির পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বদলিকৃত এই সাত কারারক্ষী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদার এবং জেলার মোঃ হুমায়ুন কবির হাওলাদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত ও আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিচিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে জেল সুপার ও জেলাংশের ব্যক্তিগত ও নানা সংবেদনশীল কাজকর্ম সম্পাদন করে আসছিলেন। পছন্দের ও অনুগত কর্মীদের হাতছাড়া না করতেই জেল সুপার ও জেলার তাদের অবমুক্ত করতে অনীহা প্রকাশ করছেন এবং নানা অজুহাতে বদলির নির্দেশ ঝুলিয়ে রেখেছেন।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রশাসনিক আদেশ অমান্য করে বদলিকৃত কর্মীদের বহাল রাখার বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) মোহাম্মদ ছগির মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কর্মকর্তাদের এমন নীরবতা ও প্রশাসনিক খামখেয়ালিপনায় সাধারণ কারারক্ষীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। একটি স্পর্শকাতর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বদলির আদেশ কার্যকরে এই কালক্ষেপণ কারা প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।