যশোর প্রতিনিধি: কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে (৩৫) আদালতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমনের একক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের ভাষ্য, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাকে লালমাইয়ের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান সুমন। পরে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে তাজমিনের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি।

এর আগে অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান তিনি। পরে সুমনকে গ্রেফতার করে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তার বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তাজমিন।