ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তানোরে ওসি পারভেজের তৎপরতায় জনমনে স্বত্তি

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহী জেলা শহর হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে বরেন্দ্র ভূমিতে অবস্থিত তানোর উপজেলা।এই উপজেলার উত্তরে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা ও মান্দা উপজেলা, দক্ষিণে পবা উপজেলা ও গোদাগাড়ী উপজেলা, পূর্বে মোহনপুর উপজেলা, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও নাচোল উপজেলা। তানোরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শিব নদী।

বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। তানোর থানা গঠন করা হয় ১৮৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এবং উপজেলা গঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৩৩০ জন। পুরুষ ৯৪ হাজার ৪১ জন (৪৯.১৫%) ও নারী ৯৭ হাজার ২৮৯ জন(৫০.৮৫%)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৬৪৮ প্রতি বর্গ কিলোমিটার। মুসলমান এক লাখ ৬২ হাজার ০১৮ জন (৮৪.৬৮%), সনাতন ধর্মাবলম্বী ১৫ হাজার ১৫২ জন (৭.৯২%), খৃস্টান ৯ হাজার ৩২৯ জন (৪.৮৭%), বৌদ্ধ ১৭ জন (০.০১%), অন্যান্য ৪,৮১৪ জন (২.৫২%)। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মসজিদ ৫১০টি, ঈদগাহ ২০০টি, মন্দির ২২টি, গির্জা ১৬টি ও প্যাগোডা ১টি।

আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার। শীব নদী ঘেষে এ থানার অবস্থান। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে স্থলপথ ও অল্পকিছু নদী পথে দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার সঙ্গে রয়েছে এ থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক শিল্প কারখানা।এমন একটি জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ থানার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশের নেতৃত্বে রয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ। যিনি যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যায় তানোর থানা ও পুলিশের চিত্র।

তিনি যোগদানের পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জড়িতদের আটক, আইন-শৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার, মামলা গ্রহণের বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজরদারি, সড়ক পথে শৃঙ্খলা রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলা, বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন। তিনি যোগদানের পর পাল্টে যায় সোনাতলা থানার যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি ।তাঁর এ দূরদর্শিতার ফলে থানায় কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী মাদকসেবী। যোগদানের অল্প সময়ে মাদক উদ্ধারে তার আমলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তিনি যোগদানের পর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ, ব্যতিক্রমধর্মী ও ক্রিয়েটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা থানা পুলিশের ইমেজকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।

এ ছাড়া তিনি যোগদানের পর থেকে থানার অফিসারদের উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন (ইউপি) দুটি পৌরসভা বিট পুলিশিং কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায়ই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি, বাজার মনিটরিং ও গুজব প্রতিরোধ ঠেকাতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।তানোর থানার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটা সময় পুলিশের প্রতি নির্ভরশীলতার অভাবে অনেক মানুষেরই ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে অনিহা ছিল। অনেকে নিরবে-নিভৃতে প্রভাবশালীদের ছোটখাটো জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

এতে করে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।এসব সামাজিক সমস্যা নিরসনে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ তাঁর অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধার মানুষের অভিযোগ শুনে থাকেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে।এছাড়াও চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই,মাদক উদ্ধারসহ আইন শৃঙ্খল উন্নয়ন করায় পুলিশ এখন তানোর বাসীর কাছে প্রকৃত সেবকে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের হারানো ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও মনোবল বৃদ্ধি হয়েছে। তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে তেমনি তানোরবাসীর জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে বলে জানিয়েছেন তানোরের সচেতন ও সামাজিক মহল।#

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তানোরে ওসি পারভেজের তৎপরতায় জনমনে স্বত্তি

আপডেট টাইম : ০৪:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহী জেলা শহর হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে বরেন্দ্র ভূমিতে অবস্থিত তানোর উপজেলা।এই উপজেলার উত্তরে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা ও মান্দা উপজেলা, দক্ষিণে পবা উপজেলা ও গোদাগাড়ী উপজেলা, পূর্বে মোহনপুর উপজেলা, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও নাচোল উপজেলা। তানোরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শিব নদী।

বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। তানোর থানা গঠন করা হয় ১৮৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এবং উপজেলা গঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৩৩০ জন। পুরুষ ৯৪ হাজার ৪১ জন (৪৯.১৫%) ও নারী ৯৭ হাজার ২৮৯ জন(৫০.৮৫%)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৬৪৮ প্রতি বর্গ কিলোমিটার। মুসলমান এক লাখ ৬২ হাজার ০১৮ জন (৮৪.৬৮%), সনাতন ধর্মাবলম্বী ১৫ হাজার ১৫২ জন (৭.৯২%), খৃস্টান ৯ হাজার ৩২৯ জন (৪.৮৭%), বৌদ্ধ ১৭ জন (০.০১%), অন্যান্য ৪,৮১৪ জন (২.৫২%)। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মসজিদ ৫১০টি, ঈদগাহ ২০০টি, মন্দির ২২টি, গির্জা ১৬টি ও প্যাগোডা ১টি।

আয়তন ২৯৫ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার। শীব নদী ঘেষে এ থানার অবস্থান। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে স্থলপথ ও অল্পকিছু নদী পথে দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার সঙ্গে রয়েছে এ থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক শিল্প কারখানা।এমন একটি জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ থানার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশের নেতৃত্বে রয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ। যিনি যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যায় তানোর থানা ও পুলিশের চিত্র।

তিনি যোগদানের পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জড়িতদের আটক, আইন-শৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার, মামলা গ্রহণের বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজরদারি, সড়ক পথে শৃঙ্খলা রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলা, বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন। তিনি যোগদানের পর পাল্টে যায় সোনাতলা থানার যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি ।তাঁর এ দূরদর্শিতার ফলে থানায় কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী মাদকসেবী। যোগদানের অল্প সময়ে মাদক উদ্ধারে তার আমলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তিনি যোগদানের পর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ, ব্যতিক্রমধর্মী ও ক্রিয়েটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা থানা পুলিশের ইমেজকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।

এ ছাড়া তিনি যোগদানের পর থেকে থানার অফিসারদের উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন (ইউপি) দুটি পৌরসভা বিট পুলিশিং কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায়ই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি, বাজার মনিটরিং ও গুজব প্রতিরোধ ঠেকাতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।তানোর থানার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটা সময় পুলিশের প্রতি নির্ভরশীলতার অভাবে অনেক মানুষেরই ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে অনিহা ছিল। অনেকে নিরবে-নিভৃতে প্রভাবশালীদের ছোটখাটো জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

এতে করে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।এসব সামাজিক সমস্যা নিরসনে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ তাঁর অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধার মানুষের অভিযোগ শুনে থাকেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে।এছাড়াও চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই,মাদক উদ্ধারসহ আইন শৃঙ্খল উন্নয়ন করায় পুলিশ এখন তানোর বাসীর কাছে প্রকৃত সেবকে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের হারানো ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও মনোবল বৃদ্ধি হয়েছে। তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে তেমনি তানোরবাসীর জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে বলে জানিয়েছেন তানোরের সচেতন ও সামাজিক মহল।#