ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় ‘প্রকৃতি ফাইন আর্টস ক্যাডেট ও বৃত্তি কোচিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন তেল নিয়ে কারসাজি রাজশাহীর রহমান ফিলিং স্টেশনে দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত দৌলতপুরে প্রভাবশালীদের তেল নেওয়া ঘিরে হট্টগোল, পুলিশ আহত রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও  রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন  পোরশায় স্ত্রীকে প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা -ঘাতক স্বামী গ্রেফতার  তানোরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফুলবাড়ীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ নওগাঁয় ২০ কেজি গাজাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার

দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে

ফাইল ছবি

এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে ছয়টি উৎসবভাতা নেন, উপরন্তু নানা ধরনের সম্মানী ভাতা বাবদ তাঁরা চলতি বছর ইতিমধ্যে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি অংশ পাঠ্যবই মুদ্রণ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। দরপত্র আহ্বানের আগেই তাঁরা প্রাক্কলিত দর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন; সেই সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে দরপত্র জমা দেয়। অর্থাৎ তাঁদের সহযোগিতায় একটা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাঁরা দরপত্র-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার নীতিকে অর্থহীন করে দিয়েছেন। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বেনামে মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পায়। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ফলে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পাঠ্যবই ‘সন্তোষজনক’ ছাড়পত্র পায়; মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপা বই জমা দিতে ব্যর্থ হলেও এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সঠিক সময়ে বই পাওয়া গেছে।

এনসিটিবির এসব অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর ধরে; এটা একটা সংঘবদ্ধ ও নিয়মিত ব্যবস্থা, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় কী, তা তাঁরা পরে জানাবেন। এটা দায়সারা বক্তব্য; এই মাত্রার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় নির্ধারণের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নজরদারি করলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হতে পারত না।

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, দলীয় বা ভাবাদর্শগত দিকে যেসব অভিযোগ টিআইবির প্রতিবদনে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু পাঠ্যবই প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় আর্থিক দুর্নীতি ফৌজদারি অপরাধ এবং তা চলে আসছে সংঘবদ্ধভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। শুধু এনসিটিবির প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়, এই অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার করা ও তা চিরতরে বন্ধ করার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় ‘প্রকৃতি ফাইন আর্টস ক্যাডেট ও বৃত্তি কোচিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন

দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট টাইম : ১০:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে ছয়টি উৎসবভাতা নেন, উপরন্তু নানা ধরনের সম্মানী ভাতা বাবদ তাঁরা চলতি বছর ইতিমধ্যে ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি অংশ পাঠ্যবই মুদ্রণ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। দরপত্র আহ্বানের আগেই তাঁরা প্রাক্কলিত দর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেন; সেই সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে দরপত্র জমা দেয়। অর্থাৎ তাঁদের সহযোগিতায় একটা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাঁরা দরপত্র-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার নীতিকে অর্থহীন করে দিয়েছেন। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বেনামে মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পায়। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ফলে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পাঠ্যবই ‘সন্তোষজনক’ ছাড়পত্র পায়; মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপা বই জমা দিতে ব্যর্থ হলেও এনসিটিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সঠিক সময়ে বই পাওয়া গেছে।

এনসিটিবির এসব অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর ধরে; এটা একটা সংঘবদ্ধ ও নিয়মিত ব্যবস্থা, যা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, এ ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় কী, তা তাঁরা পরে জানাবেন। এটা দায়সারা বক্তব্য; এই মাত্রার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করণীয় নির্ধারণের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নজরদারি করলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হতে পারত না।

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, দলীয় বা ভাবাদর্শগত দিকে যেসব অভিযোগ টিআইবির প্রতিবদনে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে, কিন্তু পাঠ্যবই প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় আর্থিক দুর্নীতি ফৌজদারি অপরাধ এবং তা চলে আসছে সংঘবদ্ধভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। শুধু এনসিটিবির প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নয়, এই অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার করা ও তা চিরতরে বন্ধ করার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত।