ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় ‘প্রকৃতি ফাইন আর্টস ক্যাডেট ও বৃত্তি কোচিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন তেল নিয়ে কারসাজি রাজশাহীর রহমান ফিলিং স্টেশনে দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত দৌলতপুরে প্রভাবশালীদের তেল নেওয়া ঘিরে হট্টগোল, পুলিশ আহত রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও  রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন  পোরশায় স্ত্রীকে প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা -ঘাতক স্বামী গ্রেফতার  তানোরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ফুলবাড়ীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ নওগাঁয় ২০ কেজি গাজাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার

দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা

দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা

 ১০ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সুজন আলী (৩২) নামে এক যুবকের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং টানা ১০ দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।

গত ২৩ মার্চ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত সুজন আলী ওই গ্রামের উকিল ফকিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নিজ ঘাসের জমিতে কাজ করছিলেন সুজন আলী। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে গামছা ঢুকিয়ে অসহায় করে তোলে। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। একই সঙ্গে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সুজন আলীর দুলাভাই জানারুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া বিষা (৬৫), তার ছেলে হাসানুর রহমান বাবু (৪২), নাতি মো. বাপ্পি (১৯), স্ত্রী পানছুরা খাতুন (৬০), গরুড়া এলাকার মো. মদন (৫০) ও তার ছেলে মো. মিনার (২৮)-সহ আরও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহতের মামা শফিরুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসার খবর নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানান, সুজনরে শারীরীক অবস্থা আগের থেকে একটু ভালো। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় ‘প্রকৃতি ফাইন আর্টস ক্যাডেট ও বৃত্তি কোচিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন

দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৯:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা

 ১০ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সুজন আলী (৩২) নামে এক যুবকের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং টানা ১০ দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।

গত ২৩ মার্চ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত সুজন আলী ওই গ্রামের উকিল ফকিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে নিজ ঘাসের জমিতে কাজ করছিলেন সুজন আলী। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে গামছা ঢুকিয়ে অসহায় করে তোলে। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেরেক ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। একই সঙ্গে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় সুজন আলীর দুলাভাই জানারুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া বিষা (৬৫), তার ছেলে হাসানুর রহমান বাবু (৪২), নাতি মো. বাপ্পি (১৯), স্ত্রী পানছুরা খাতুন (৬০), গরুড়া এলাকার মো. মদন (৫০) ও তার ছেলে মো. মিনার (২৮)-সহ আরও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহতের মামা শফিরুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসার খবর নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানান, সুজনরে শারীরীক অবস্থা আগের থেকে একটু ভালো। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।