বাগমারা থানা পুলিশের অভিযানে লিবিয়ায় অপহৃত দুইজনকে উদ্ধারসহ পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
রাজশাহী ব্যুরো: মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে লিবিয়ায় জিম্মি থাকা দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাগমারা উপজেলার বীরকুৎসা গ্রামের কছিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) ও গোপিনাথপুর গ্রামের বাবুলের ছেলে মোঃ জিসান (২২)। ২০২২ সালে দালাল চক্রের সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা বিদেশে পাড়ি জমান। তবে ইতালিতে নেওয়ার কথা থাকলেও প্রতারক চক্র তাদের কৌশলে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা একটি সংঘবদ্ধ বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়েন। সেখানে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক কঠোর শ্রমে নিয়োজিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। খাবার ও বিশ্রাম থেকেও বঞ্চিত রাখা হয় তাদের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবির সত্যতা প্রমাণে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠানো হলে পরিবার চরম আতঙ্কে পড়ে। পরে জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হলেও ভুক্তভোগীদের মুক্তি না দিয়ে আরও অর্থ দাবি এবং নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার বাগমারা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীনে মামলা রুজু করে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মোঃ শিহাব উদ্দীনের ওপর এবং তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বাংলাদেশি সহযোগী ও ব্যাংক হিসাবধারী আল মামুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল চক্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে তারা ভুক্তভোগী রাজ্জাক ও জিসানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বর্তমানে তারা দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দালাল চক্রের প্রলোভনে পা না দিয়ে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 


















