ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নওগাঁয় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত  বেরোবির মেগা প্রকল্প আবারও এডিপির ‘সবুজ পাতায়’ ঘোড়াঘাটে বৃদ্ধা দাদীকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩ বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট সন্তানের সিলেটে স্বপ্না ফিজিওথেরাপী ও হিজামা সেন্টারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার বরাবরে অভিযোগ কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার গোদাগাড়ীতে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ধরমপুরে ব্রি ধান-১২০ এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত যশোরে উলাশীর জিয়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেরোবিতে চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ প্রশাসন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান (৬০) হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে আলমগীর হোসেন (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আলমগীরকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। তার বাবা তছিকুল ইসলাম বলেন, রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এলে তাকে না পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে উঠে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়।

রোজিনা খাতুন আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে দরবারে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে একই মামলায় রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ভবনের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার তিন দিন পর, ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত 

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ০৭:২৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা: মামলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান (৬০) হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে আলমগীর হোসেন (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আলমগীরকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। তার বাবা তছিকুল ইসলাম বলেন, রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এলে তাকে না পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে উঠে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়।

রোজিনা খাতুন আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে দরবারে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এর আগে একই মামলায় রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ভবনের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার তিন দিন পর, ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।