ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘোড়াঘাটে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা

ঘোড়াঘাটে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ধান মাড়াইয়ের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারপিট এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী সামিউল ইসলাম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের নামে থানায় এজাহার দাখিল করলে ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে গতকাল রাতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সামিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ধান মাড়াইয়ের মেশিনের মাধ্যমে কৃষকদের ধান মাড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ঘটনার দিন গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিরাহিমপুর গুচ্ছগ্রাম বাজারে ধান মাড়াইয়ের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার বারপাইকেরগড় পাতিলাকুড়া গ্রামের ভুট্টু মিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুট্টু মিয়ার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম পিস্তল, দা, পশু কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজনকে আসার জন্য উসকানি দেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভুট্টু মিয়া, সাব্বির, নাহিদ, রোহানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরাহিমপুর গুচ্ছগ্রাম বাজার এলাকায় মহড়া দেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করে।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে সামিউল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে গেট ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় সামিউল ইসলামের চাচাতো, ফুফাতো ভাই সহ পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এতে রুপালি ও সালমা বেগম নামে দুই নারীকে লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ ছাড়া বাদীর চাচাতো ভাই মিন্টু মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গলা টিপে ধরে গুরুতর আহত করেন।
এ সময় হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা সহ যাওয়ার সময় প্রাণনাশ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে সালমা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা সহ এজাহারভুক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।