ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দুর্গাপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দুর্গাপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর

রাজশাহী ব্যুরো: ‘খেলবে রাজশাহী, জিতবে বাংলাদেশ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে শুরু হয়েছিল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। সেই টুর্ণামেন্টের আজ ফাইনাল ম্যাচটি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফাইনাল দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটে আসেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে জমজমাট এই টুর্নামেন্টের।
ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ও দুর্গাপুর উপজেলা নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুর্গাপুরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলে নেয় মোহনপুর উপজেলা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। বৃষ্টির ঘনঘটা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে আসতে শুরু করেন দুই দলের সমর্থকরা। ম্যাচ শুরুর পর গ্যালারিতে পা রাখারও জায়গা ছিল না। দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ফুটবল উৎসবে।
খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় গোল করে মোহনপুরকে এগিয়ে দেন মমিনুল। দ্রুত গোল হজম করেও দমে যায়নি দুর্গাপুর। ১৭ মিনিটের মাথায় স্টপার থেকে উঠে এসে ২ নম্বর জার্সিধারী প্রণয় গোল করে দুর্গাপুরকে সমতায় ফেরান।
এরপর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেললেও নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। শিরোপা নির্ধারণে দুই দলকে আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। টাইব্রেকারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্টেডিয়ামে। মোহনপুর ছয়টি শট নিয়ে তিনটিতে গোল করতে সক্ষম হয়। বিপরীতে দুর্গাপুর ছয়টি শটের মধ্যে দুটি গোল করে। ফলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মোহনপুর উপজেলা।

বিজয়ের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন গ্যালারিতে থাকা মোহনপুরের সমর্থকরা। মুহূর্তেই উৎসবে পরিণত হয় পুরো মাঠ। মাঠের চারপাশে পটকা ও আতশবাজি নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। পরে জয়ের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক রায়হান আলীকে কাঁধে তুলে নেন মোহনপুরের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। তাকে ঘিরে চলে উল্লাস ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। রায়হানও গ্যালারিতে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে হাত মেলান। গ্যালারি থেকে মাঠ সবখানেই তখন শুধু বিজয়ের আনন্দ।

এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও ফাইনাল ম্যাচে সেই আগ্রহ যেন ছাড়িয়ে যায় সবকিছুকে। সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও দর্শকদের উপস্থিতি কমেনি। বরং খেলা শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি পূর্ণ হয়ে যায়। দুই উপজেলার পাশাপাশি রাজশাহী শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসেন ফাইনালের খেলা দেখতে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাঠে এসে দর্শকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে রাজশাহীতে ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো অটুট। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের এই ফাইনাল তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয় এক দিন।

দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশীদ, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলার পলাশ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন মোহনপুরের ১০ নম্বর জার্সিধারী বাদল। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক রায়হান আলী।
এ ছাড়া ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলার ১০ নম্বর জার্সিধারী জুবায়ের রহমান।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে টুর্নামেন্টটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মোজাম্মেল হক। আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেছেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, ক্রীড়া সংগঠক মুরাদুজ্জামান এলান, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল।
তাদের সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিশ্রমে দীর্ঘদিন পর রাজশাহীর ফুটবল অঙ্গনে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে। মাঠে দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি এবং টুর্নামেন্টজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসই যার বড় প্রমাণ।