ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

তানোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ 

তানোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ 

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) বার্নাবাস হাসদাকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী সোমবার (২২জুন) টিএইচও’র নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক,জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও টিএইচও’র অফিস সময় ফাঁকি দেয়াসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।টিএইচও’র বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে না থাকা এবং দায়িত্বহীনতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) মেডিকেলের কোয়ার্টারে না থেকে দূর থেকে যাতায়াত করায় জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের  উৎসব ভাতা থেকে কমিশন আদায় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পোষাক নিয়েও বাণিজ্যর গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) আওয়ামী মতাদর্শী ডা. বার্নাবাস হাসদাক  অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও সাধারণ রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার চলমান রয়েছে। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বলয় তৈরি করেছেন।অথচ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এদিকে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ১০টি অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এসব অনিযমের মধ্য রয়েছে- রোগীদের খাবারে অনিয়ম, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ভর্তি রোগীদের নির্ধারিত মান ও পরিমাণে খাবার সরবরাহের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে রোগীরা যথাযথ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ এ খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
এছাড়াও আউটসোর্সিং নিয়োগে দুর্নীতি-আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে কোনো স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মরত কর্মচারীদের নির্ধারিত বেতন থেকে অবৈধভাবে অর্থ কেটে রাখার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি ওষুধ কালোবাজারি-দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে বিতরণ না করে, এর একটি বড় অংশ গোপনে বাইরে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে সাধারণ রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কিনছেন।
অন্যদিকে ডায়াগণস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে কমিশন বাণিজ্য-হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়।
এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টরা মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করছেন, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালার পরিপন্থী।
এছাড়াও বাগান রক্ষণাবেক্ষণে ভুয়া বিল-হাসপাতালের ঔষুধী ও ফুলের বাগান  সৌন্দর্যবর্ধন রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে মেডিকেল সার্টিফিকেট বাণিজ্যে-অনিয়ম: মারামারি বা বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য জরুরি সার্টিফিকেট প্রদানকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ওপেন সিক্রেট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার-হাসপাতালে টিএইচও’র মদদপুষ্ট  কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রোগী, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ব্যবহার করেন। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি বিলে আর্থিক অনিয়ম-সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা, জ্বালানি খরচ এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচার উত্তোলনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে।
অন্যদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকে অব্যবস্থাপনা- উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকের
দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান না করা এবং ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এছাড়া অভিযোগে আরো বলা হয়েছে যেকোনো তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ-সচেতন মহল কিংবা গণমাধ্যমকর্মী হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও সেবা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য অধিকার আইন তোয়াক্কা না করে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় এবং অধিকাংশক্ষেত্রে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।সরেজমিন অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারীগণ।
এদিকে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী যথাযথ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা,এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, গতকাল সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে একটা ছোট খাটো ঝামেলা  হয়েছিল,তবে তারা টিএইচও’র বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দিতে পারেনি।তিনি বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা, বার্নাবাস হাসদাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,কেউ অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এমন অভিযোগ তুলেছে, তবে এগুলো সব মনগড়া ও ভিত্তিহীন।