ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

ধান চাষে বরেন্দ্র বদলে দেবে ‘নূর ধান-১’

ধান চাষে বরেন্দ্র বদলে দেবে ‘নূর ধান-১’

প্রতিনিধি তানোর (রাজশাহী)
রাজশাহী জেলা তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা  স্বশিক্ষিত  নূর মোহাম্মদ একজন প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন কৃষক। উচ্চতর কোনো ডিগ্রি নেই তাঁর তবুও পেয়েছেন জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। কৃষক পর্যায়ে কৃষি গবেষণায় কৃষি উন্নয়নে দেশ গড়ার প্রচেষ্টায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে নুর মোহাম্মদের অসামান্য অবদান রয়েছে।
জানা গেছে,প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চল ও বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের জন্য ‘নূর ধান-১’ উপযোগী। তিনি দেশি জাতের উন্নতি ঘটিয়ে ধানের জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। এতে ফসলে পানির প্রয়োজনীয়তা কম লাগে এবং ফসল বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে কিভাবে কম পানিতে, কম সময়ে ও কম খরচে ধান কেটে ঘরে তোলা যায় এ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ও এলাকার কৃষকদের মধ্যেও নিত্যনতুন প্রযুক্তি বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কৃষক পর্যায়ে ধানের নতুন নতুন সারি উদ্ভাবন করায় এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে নতুন নতুন দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের ধানের অবস্থা তাঁদের নিজ এলাকায় দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
সম্প্রতি নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা ফার্মে গবেষণা প্লটের দুটি জাত ও ২০০ সারির মধ্যে স্থানীয় জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে ‘নূর ধান-১’ কর্তন করা হয়। কাটা, মাড়া-ঝাড়ায় শেষে শুকনা ওজনে হেক্টর প্রতি ছয় মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহীর তানোরের কৃষক নূর মোহাম্মদ।
বিঘা প্রতি ২০ মণ, চাল হেক্টরপ্রতি চার মেট্রিক টন ১১ দশমিক ১২ মণ ফলন পাওয়া যায়। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১৯.১ সেন্টিমিটার। কুশির সংখ্যা গড় ১৪, ছড়ার দৈর্ঘ্য গড় ২৮.৪ সেন্টিমিটার, এক হাজার পুষ্ট দানার ওজন ১৯.৮০ গ্রাম। জীবনকাল ১৫০ দিন। চাল লম্বা চিকন, যা জিরা চালের অনুরূপ, ভাত ঝরঝরে।
সম্প্রতি তানোরে নুর মোহাম্মদের চাষ করা নুর ধান-১’ কাটা হয়।
সময় উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ডিএফএম এমদাদুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলী রেজা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোয়াইব এবং এলাকার কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।