নওগাঁর পাটচাষিরা ভালো ফলন ও দামে খুব খুশি
মোহাম্মদ আককাস আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
অনুকূল আবহাওয়ায় এবার নওগাঁ জেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর পানিতে জাগ দেওয়ার পর টানা এক মাস ধরে জমজমাট সোনালি আঁশ পাটের হাট-বাজার। গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রায় এক যুগ পর এবার মৌসুমের শুরু থেকেই পাটের ভালো দাম মিলেছে। গত বছরের চেয়ে এবার মৌসুমের শুরুতেই প্রতি মণ পাটের দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে।
জেলার বিভিন্ন পাটের হাটের মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে। হাটে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেশ দরদাম করেই পাট বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এর প্রভাবেই গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে পাটের দাম।
পাট বাবুসাইরা বলছেন ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের রং ও মান ভালো। বাজারে চাহিদাও আছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে মানভেদে ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে পাট কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।’
পাট চাষীরা বলছেন, ‘বিঘাপ্রতি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ১২ মণ করে ফলন পেয়েছি। এবার বৃষ্টি ভালো হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। জলাশয় ও ডোবায় পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়াতেও সুবিধা হয়েছে। ৩ হাজার ৯৫০ টাকা মণ দরে ২৭ মণ পাট বিক্রি করলাম। গত এক যুগে এটাই সর্বোচ্চ পাটের দর।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, ‘চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। পাট শুধু আঁশ হিসেবে নয়, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে।’
Print [1]