ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আসামিকে চেনেন না অথচ সাংবাদিক রাসেল খুনের মামলার আসামি সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি কমলগঞ্জে ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, শিক্ষক উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ নাগরপুরে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত  ভেড়ামারায় খাল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে আটক করেছে পুলিশ রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই নওগাঁয় বৈদ্যুতিক পোল অপসারণ না করার কারণে থমকে আছে আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন কাজ ঘোড়াঘাটে ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে চলছে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের চরম ভোগান্তি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (১৯) আত্মহত্যা করেছেন।

নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ী

মহাদেবপুর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা নয়ন চন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ী।

মো.আককাস আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: একটু নজদারীর অভাবে ধ্বষের শেষ প্রান্তে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জমিদার বাড়ী। মহাদেবপুর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা নয়ন চন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ীটি নির্মাণ করেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে(১৬০৫-১৬২৭) সালে। তিনি পূর্বে ভারতের বর্ধমানে বসবাস করতেন।

নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরবর্তী স্থানে এবং জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ পাশেই অবস্থিত এই জমিদার বাড়ী। সূত্রমতে যানাযায়, মুঘলদের বাংলা বিজয়ে সহযোগিতা করার জন্য নয়নচন্দ্র রায় চৌধুরী সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে পুরস্কার স্বরূপ মহাদেবপুরের জমিদার ব্যবস্থা লাভ করেন।

এই জমিদারি পরিচালনা করার জন্য জমিদার বাড়ীটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ইে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সম্মানার্থে তার নামানুসারে মহাদেবপুরের নামকরণ হয় জাহাঙ্গীরপুর। মহাদেবপুর জমিদারির শেষ জমিদার ক্ষিতিশচন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ীটির কিছু অংশ জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর মূল প্রবেশপথ এবং কিছু জমি জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের প্রাঙ্গণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

মহাদেবপুর জমিদার বাড়ীটি ঐতিহাসিক মুঘল সাম্রাজ্যের নিদর্শন। রাজবাড়ীটিতে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, বসবাসের জন্য দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন, একটি কাছারিঘর, বাগানবাডী ছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর অনেকদিন ধরে কোনো সংস্কার না করার কারণে জমিদার বাড়ীর কিছু কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়।

বর্তমানে জমিদার বাড়ীটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দেয়াালে শ্যাওলা ও লতাপাতায় জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে এবং বাড়ীর মূল্যবান লৌহা,কাঠ,দরজা লুট হয়ে গেছে। দখলে নিয়েছে রাজবাড়ীটির সিংহভাগ অংশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যমন্ডিত জনপদ।

খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকে এই প্রাচীন জনপদের কেন্দ্র ভূমিতে গড়ে ওঠে পুন্ড্রুনগর নামক এক নগর সভ্যতা কেন্দ্র। এ নগর সভ্যতার অভ্যুদয় প্রমাণ করে যে, এর ছিল বিশাল কৃষিভিত্তিক পশ্চাদভূমি। এখানে ছিল একটি সুবৃহৎ স্বচ্ছল কৃষিজীবী সমাজ। ক্রমশ স্থায়ী গ্রামীণ জীবন ধারার বিকাশ ঘটে, গোড়াপত্তন হয় সমৃদ্ধ কৃষি সমাজের। নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করতে গিয়ে গড়ে তোলে এক নতুন ধরনের সমাজ ব্যবস্থা, বিকশিত হতে থাকে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিকর রুপকাঠামো।

নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ মিশে তৈরী করেছে একটি মিশ্র জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই উপজেলায় বসবাস করে। উল্লেখযোগ্য আদিবাসী সম্প্রদায়। ইতিহাস থেকে জানা যায় মহাদেবপুরের অধিবাসিরা মুলত পুন্ড্রজাতির বংশধারায় বাংলাদেশে সর্ব প্রথম নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন করেছিল। মহাদেবপুরে বর্তমানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই পশ্চিম বঙ্গের বীরভূম,বর্ধমান ও রাঢ় অঞ্চল হতে আগত।

তা ছাড়া ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পশ্চিম বঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বালুঘাট থেকে প্রচুর লোকজন এ এলাকায় আগমন করে। মহাদেবপুর সদর শহর ৪টি মৌজা নিয়ে গঠিত এবং এর আয়তন ৭.১৫ বর্গ কি.মি.। প্রশাসন থানা সৃষ্টি হয়ে ছিল ১৮৯৮ সালে। বর্তমানে থানা ১টি, ইউনিয়ন ১০টি, মৌজা ৩০৭টি, গ্রাম ৩০০টি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আসামিকে চেনেন না অথচ সাংবাদিক রাসেল খুনের মামলার আসামি

নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ী

আপডেট টাইম : ০৪:৫১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

মো.আককাস আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: একটু নজদারীর অভাবে ধ্বষের শেষ প্রান্তে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জমিদার বাড়ী। মহাদেবপুর জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা নয়ন চন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ীটি নির্মাণ করেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে(১৬০৫-১৬২৭) সালে। তিনি পূর্বে ভারতের বর্ধমানে বসবাস করতেন।

নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরবর্তী স্থানে এবং জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ পাশেই অবস্থিত এই জমিদার বাড়ী। সূত্রমতে যানাযায়, মুঘলদের বাংলা বিজয়ে সহযোগিতা করার জন্য নয়নচন্দ্র রায় চৌধুরী সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে পুরস্কার স্বরূপ মহাদেবপুরের জমিদার ব্যবস্থা লাভ করেন।

এই জমিদারি পরিচালনা করার জন্য জমিদার বাড়ীটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ইে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সম্মানার্থে তার নামানুসারে মহাদেবপুরের নামকরণ হয় জাহাঙ্গীরপুর। মহাদেবপুর জমিদারির শেষ জমিদার ক্ষিতিশচন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ীটির কিছু অংশ জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর মূল প্রবেশপথ এবং কিছু জমি জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের প্রাঙ্গণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

মহাদেবপুর জমিদার বাড়ীটি ঐতিহাসিক মুঘল সাম্রাজ্যের নিদর্শন। রাজবাড়ীটিতে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, বসবাসের জন্য দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন, একটি কাছারিঘর, বাগানবাডী ছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর অনেকদিন ধরে কোনো সংস্কার না করার কারণে জমিদার বাড়ীর কিছু কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়।

বর্তমানে জমিদার বাড়ীটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দেয়াালে শ্যাওলা ও লতাপাতায় জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে এবং বাড়ীর মূল্যবান লৌহা,কাঠ,দরজা লুট হয়ে গেছে। দখলে নিয়েছে রাজবাড়ীটির সিংহভাগ অংশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যমন্ডিত জনপদ।

খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকে এই প্রাচীন জনপদের কেন্দ্র ভূমিতে গড়ে ওঠে পুন্ড্রুনগর নামক এক নগর সভ্যতা কেন্দ্র। এ নগর সভ্যতার অভ্যুদয় প্রমাণ করে যে, এর ছিল বিশাল কৃষিভিত্তিক পশ্চাদভূমি। এখানে ছিল একটি সুবৃহৎ স্বচ্ছল কৃষিজীবী সমাজ। ক্রমশ স্থায়ী গ্রামীণ জীবন ধারার বিকাশ ঘটে, গোড়াপত্তন হয় সমৃদ্ধ কৃষি সমাজের। নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করতে গিয়ে গড়ে তোলে এক নতুন ধরনের সমাজ ব্যবস্থা, বিকশিত হতে থাকে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিকর রুপকাঠামো।

নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ মিশে তৈরী করেছে একটি মিশ্র জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই উপজেলায় বসবাস করে। উল্লেখযোগ্য আদিবাসী সম্প্রদায়। ইতিহাস থেকে জানা যায় মহাদেবপুরের অধিবাসিরা মুলত পুন্ড্রজাতির বংশধারায় বাংলাদেশে সর্ব প্রথম নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন করেছিল। মহাদেবপুরে বর্তমানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই পশ্চিম বঙ্গের বীরভূম,বর্ধমান ও রাঢ় অঞ্চল হতে আগত।

তা ছাড়া ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পশ্চিম বঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বালুঘাট থেকে প্রচুর লোকজন এ এলাকায় আগমন করে। মহাদেবপুর সদর শহর ৪টি মৌজা নিয়ে গঠিত এবং এর আয়তন ৭.১৫ বর্গ কি.মি.। প্রশাসন থানা সৃষ্টি হয়ে ছিল ১৮৯৮ সালে। বর্তমানে থানা ১টি, ইউনিয়ন ১০টি, মৌজা ৩০৭টি, গ্রাম ৩০০টি।