এ জেড সুজন, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নিয়ম নীতি না মেনে প্রতিনিয়ত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ অবৈধভাবে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সুগার মিল। এতে বিপাকে পড়ছে প্রান্তিক কৃষকরা এবং ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের কৃষকরা, প্রতিটা গাড়ি প্রতি প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা দালালদের দিয়ে রাজশাহী সুগার মিলের কৃষকদের পুর্জি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে এই ব্যবসা। গুটিকয়েক দালালরা লাভবান হলেও এতে প্রতিনিয়ত পুর্জি হারাচ্ছে রাজশাহীর সুগার মিলের প্রান্তিক কৃষকরা।
গত (১৮/১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহীর সুলতানপুর, গড়গড়িয়া, দিঘা সেন্টার ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের পানসিপাড়া-১/২ দুড়দুড়িয়া সেন্টারে গিয়ে সরজমিনে দেখা গিয়েছে প্রতিনিয়ত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ দালালদের মাধ্যমে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সুগার মিলের বিভিন্ন ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র।
বিষয়টি নিয়ে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এবছরে প্রায় ২ লক্ষ মেঃটন আখ মাঠে আছে যা ১২০ দিন মিল চলার কথা থাকলেও আখ মাড়ায়ের ক্ষমতা কম থাকায় কৃষকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুর্জি না দেওয়াই তারা রাজশাহী সুগার মিলের দালালদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে আখ বিক্রি করে দিচ্ছে।
এতে ৩ টা সমস্যা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১) নর্থবেঙ্গল সুগারমিলের হাজার হাজার মেঃটন আখ রাজশাহী সুগারমিলে অবৈধভাবে পাচার হওয়ার ফলে নর্থবেঙ্গল সুগারমিলের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ না হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। ২) এতে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনাদায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩) এতে রাজশাহী সুগারমিলের চাষীরা পুর্জি পাওয়া থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।রাজশাহী সুগার মিল মূলত চলে ১ থেকে দেড় মাস এবং এর সম্পূর্ণ আখ যোগান দেই রাজশাহীর সুলতানপুর সেন্টার, গড়গড়িয়া সেন্টার, দীঘা সেন্টার। যেটা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই সুযোগে তারা হাজার হাজার মেট্রিক টন আখ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সুগার মিল।
এতে পুর্জি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজশাহী সুগার মিলের প্রান্তিক কৃষকরা। প্রতিনিয়ত নিয়ম-নীতি না মেনে তাদের এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষকের নামে পুর্জি দিয়ে চলছে এই ব্যবসা। এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিলের কৃষকরা বলেন, আমাদের মাঠে হাজার হাজার মেট্রিকটন আখ রয়েছে, আমাদের আখ শেষ না হতেই নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ কেন নেয়া হচ্ছে, এতে আমরা পর্যাপ্ত পরিমান পূর্জি থেকে বঞ্চিত হবো এবং যেসব দালালরা এই কাজে লিপ্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
এ বিষয়ে উল্টো রাজশাহী সুগার মিলের কর্তৃপক্ষকরা নর্থ বেঙ্গল এর ওপরে দায় চাপাচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে উল্টো তাদের পক্ষে সাফার গায়ে রাজশাহী সুগার মিলের জিএম কৃষি মাকসুদা পারভিন বলেন, রাজশাহী সুগার মিল অন্য কোন মিলের আখ নিচ্ছে না। ওখানে আমাদের ও তাদের ২ টা করে সেন্টার রয়েছে, চাষীরা চাইলে আখ দিতে পারে এটা নরমাল বেপার, দালালদের পারলে ধরিয়ে দিন আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
রাজশাহী সুগার মিলের চারঘাট জোনের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অফিসিয়ালি আমরা আমাদের কৃষককে পুর্জি দিয়ে থাকি আর চাষি আইডেন্টিফাই করা কঠিন এর বাহিরে কোনো কিছু যদি ঘটে সেটা আনঅফিশিয়ালি ঘটে। এ যেনো মামাবাড়ির আবদার নিয়ে রাজশাহী সুগার মিলের এমডি হুমায়ুন কবির বলেন, আখের গায়ে কি লেখা আছে সেটা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের নাম যে আমরা আখ নিতে পারবোনা এটাও সরকারি মিল ঐটাও সরকারি মিল আখ কেনো নিতে পারবো না এমন কোনো কথা নেই। আখ চাষিরা যেখানে সুবিধা পাবে সেখানে আখ সাপ্লাই দিবে বর্ডারের চাষিরা সুযোগ একটু বেশিই পেয়ে থাকে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 






















