ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মানবতার বাহক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ’র উপর আস্থা দু:সময়ের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের। ভেড়ামারায় নিরাময় ক্লিনিক বন্ধ: কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের আকস্মিক অভিযান ও কড়া নির্দেশ রাজশাহীতে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণ লুট দৌলতপুরের বিলপাড়ায় বখাটেদের উৎপাত, আতঙ্কে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা শরীফ উদ্দিন মুন্সীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে–পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদের গর্বের সম্পদ — ফরিদা ইয়াসমিন এমপি স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিতের আহ্বান ক্যাবের ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ঘোড়াঘাটে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, বেড জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে রোগীরা

বেড জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে রোগীরা, নওগাঁয় হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি।

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা জুড়ে বেড়েই চলেছে শীতের প্রকোপ। শীত যতই বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে নবজাতক, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর, ডায়রিয়া প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।

হাসপাতাল বেডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ঠাঁই হয়েছে শক্ত মেঝেতে। নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের বেডে জায়গা না হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতেও বিছানা পেতে রয়েছেন অনেকে। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

এই হাসপাতালে ভর্তি মান্দা উপজেলার মান্দা ফকির পাড়া গ্রামের
মমতাজ বেগম বলেন, ‘তিনদিন আগে সন্তানের হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্যালাইন খাওয়ানোর পরও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে হাসপাতালে এসেছি।

সদর উপজেলার চকমুক্তার গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের শীতে মেয়েটা বমি ও পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসি। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর এতটাই চাপ যে, জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।’ নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মনিরা জান্নাত বলেন, ‘হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের বেডে জায়গা হচ্ছে না।

তাই মেঝেতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক বেডে ২-৩ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে কষ্ট পাচ্ছে অভিভাবক এবং শিশুরা। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো আমরাও হাঁপিয়ে উঠেছি। নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারহানা আখতার ফারুক বলেন, ‘হাসপাতালে অন্য রোগীর তুলনায় শিশু আর বয়স্ক রোগীর
সংখ্যা বেশি।

প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন ডায়রিয়া এবং ১৫ জন নিউমোনিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এই অবস্থায় চিকিৎসক আর নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন রোগীদের সেবা দেওয়ার। কলেরা স্যালাইনসহ বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ওষুধ সরকার থেকে সাপ্লাই থাকার কারণে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি।শিশুদের বাইরের অনিরাপদ খাবার না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই আবহাওয়ায় শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

শিশুদের যেন ঠান্ডা না লাগে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ‘গত পাঁচ দিনে জেলার ১১ উপজেলায় চার শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও বয়স্ক। শীত থেকে রক্ষা পেতে গরম খাবার ও গরম পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাচ্চারা অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার বাহক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ’র উপর আস্থা দু:সময়ের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের।

পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, বেড জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে রোগীরা

আপডেট টাইম : ০৮:১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২২

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা জুড়ে বেড়েই চলেছে শীতের প্রকোপ। শীত যতই বাড়ছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে নবজাতক, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর, ডায়রিয়া প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।

হাসপাতাল বেডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ঠাঁই হয়েছে শক্ত মেঝেতে। নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের বেডে জায়গা না হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতেও বিছানা পেতে রয়েছেন অনেকে। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

এই হাসপাতালে ভর্তি মান্দা উপজেলার মান্দা ফকির পাড়া গ্রামের
মমতাজ বেগম বলেন, ‘তিনদিন আগে সন্তানের হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। স্যালাইন খাওয়ানোর পরও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে হাসপাতালে এসেছি।

সদর উপজেলার চকমুক্তার গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের শীতে মেয়েটা বমি ও পাতলা পায়খানা দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসি। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর এতটাই চাপ যে, জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।’ নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মনিরা জান্নাত বলেন, ‘হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু ওয়ার্ডের বেডে জায়গা হচ্ছে না।

তাই মেঝেতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক বেডে ২-৩ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে কষ্ট পাচ্ছে অভিভাবক এবং শিশুরা। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো আমরাও হাঁপিয়ে উঠেছি। নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফারহানা আখতার ফারুক বলেন, ‘হাসপাতালে অন্য রোগীর তুলনায় শিশু আর বয়স্ক রোগীর
সংখ্যা বেশি।

প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন ডায়রিয়া এবং ১৫ জন নিউমোনিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এই অবস্থায় চিকিৎসক আর নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন রোগীদের সেবা দেওয়ার। কলেরা স্যালাইনসহ বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক ওষুধ সরকার থেকে সাপ্লাই থাকার কারণে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি।শিশুদের বাইরের অনিরাপদ খাবার না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই আবহাওয়ায় শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

শিশুদের যেন ঠান্ডা না লাগে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ‘গত পাঁচ দিনে জেলার ১১ উপজেলায় চার শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও বয়স্ক। শীত থেকে রক্ষা পেতে গরম খাবার ও গরম পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাচ্চারা অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।