ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ কুষ্টিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফডারশনর বিশাল গণমিছিল ও সমাবশ অনুষ্ঠিত নাগরপুরে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দৌলতপুরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ইউনিট পরিদর্শন নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

বাগমারায় ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বাগমারায় ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

রাজশাহী ব্যুরো:  দরবারের নামে একজন চিহ্নিত ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেছে চেয়ারম্যান, এমন অভিযোগ উঠেছে বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ১৬ এপ্রিল উপজেলার মচমইল গ্রামে ঘটেছে। মোশাররফ হোসেনের গ্রামবাসির হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল সকালে হঠৎ চিৎকার চেচামেচি শুনে জড়ো হয় গ্রাম বাসি। জানতে পারেন পান বরজ থেকে আফজাল হোসেন ও পাড়ার এক গৃহবধুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। আফজাল হোসেন মচমইল মধ্যপাড়া গ্রামের ইয়ানুস ফকিরের ছেলে এবং মচমইল ডিগ্রি কলেজের যুক্তবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে এই আফজাল এর আগেও অন্য এক গৃহবধুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে এলাকাবাসি জানান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় আফজাল হোসেনের কুকর্মের বর্ণনা। এলাকাবাসির দাবি তাদের এই পরকিয়া অনেকদিন ধরে চলছে। ঘটনার দিন ধর্ষিতার সাথে কথা বললে সে জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন আফজাল তাকে ধর্ষণ করেছে।

এলাকাবাসি জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত আফজালকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। নিরুপায় হয়ে ঘটনার দিন সকালেই ধর্ষিতার স্বামী ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এঘনায় বিকালে চেয়ারম্যানের নির্দেশে শালিসের আহব্বান করা হয়। শালিসে মিমাংশা করার চেষ্টা করেন স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যান। তখন পর্যন্ত আফজাল হোসেন গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদারের হেফজতে ছিল। কিন্তু ভুক্তভোগীরা মিমাংসা না মানলে ধর্ষক আফজাল হোসেনকে পালাতে সহযোগিতা করেন চেয়ারম্যান। এরপর এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে চেয়ারম্যান। অবস্থার বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেন চেয়ারম্যান এবং পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে কথা হয় উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এই ঘটনা সত্য কিন্তু আমি ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেছি এটি সঠিক নয়। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। চাইলে আপনি সরেজমিন এসে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আপনাকে সাধরণ জনগণ কেন ঘিরে ধরলো? আর সেখান থেকে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে বের হতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে আমি পুলিশ ডাকিনি, ভুক্তভোগীরা ডেকেছে। আর আমাকে কেউ ঘিরে ধরেনি। এগুলো আমার প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার করছে।

পরে বিষয়টি নিয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনার খবর জানি কিন্তু আমার কাছে কেউ মামলা বা অভিযোগ করতে আসেন নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন

বাগমারায় ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট টাইম : ০২:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

বাগমারায় ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

রাজশাহী ব্যুরো:  দরবারের নামে একজন চিহ্নিত ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেছে চেয়ারম্যান, এমন অভিযোগ উঠেছে বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ১৬ এপ্রিল উপজেলার মচমইল গ্রামে ঘটেছে। মোশাররফ হোসেনের গ্রামবাসির হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল সকালে হঠৎ চিৎকার চেচামেচি শুনে জড়ো হয় গ্রাম বাসি। জানতে পারেন পান বরজ থেকে আফজাল হোসেন ও পাড়ার এক গৃহবধুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। আফজাল হোসেন মচমইল মধ্যপাড়া গ্রামের ইয়ানুস ফকিরের ছেলে এবং মচমইল ডিগ্রি কলেজের যুক্তবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে এই আফজাল এর আগেও অন্য এক গৃহবধুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে এলাকাবাসি জানান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় আফজাল হোসেনের কুকর্মের বর্ণনা। এলাকাবাসির দাবি তাদের এই পরকিয়া অনেকদিন ধরে চলছে। ঘটনার দিন ধর্ষিতার সাথে কথা বললে সে জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন আফজাল তাকে ধর্ষণ করেছে।

এলাকাবাসি জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত আফজালকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। নিরুপায় হয়ে ঘটনার দিন সকালেই ধর্ষিতার স্বামী ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এঘনায় বিকালে চেয়ারম্যানের নির্দেশে শালিসের আহব্বান করা হয়। শালিসে মিমাংশা করার চেষ্টা করেন স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যান। তখন পর্যন্ত আফজাল হোসেন গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদারের হেফজতে ছিল। কিন্তু ভুক্তভোগীরা মিমাংসা না মানলে ধর্ষক আফজাল হোসেনকে পালাতে সহযোগিতা করেন চেয়ারম্যান। এরপর এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে চেয়ারম্যান। অবস্থার বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেন চেয়ারম্যান এবং পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এমন অভিযোগে প্রেক্ষিতে কথা হয় উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এই ঘটনা সত্য কিন্তু আমি ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করেছি এটি সঠিক নয়। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। চাইলে আপনি সরেজমিন এসে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আপনাকে সাধরণ জনগণ কেন ঘিরে ধরলো? আর সেখান থেকে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে বের হতে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে আমি পুলিশ ডাকিনি, ভুক্তভোগীরা ডেকেছে। আর আমাকে কেউ ঘিরে ধরেনি। এগুলো আমার প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার করছে।

পরে বিষয়টি নিয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনার খবর জানি কিন্তু আমার কাছে কেউ মামলা বা অভিযোগ করতে আসেন নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।