ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনদেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ইমরানের (৩০) বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকার একটি মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন গোলাঘাট এলাকার বাসিন্দা ইমরান। একপর্যায়ে কথাবার্তার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান ইমরান।

কিশোরীর বাবার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট ২০২৫ সকালে বিয়ের কথা বলে মেয়েকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একটি অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে বিভিন্ন সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে অন্যত্র নিয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার সময় কিশোরীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের মোবাইলে সংরক্ষণ করেন অভিযুক্ত। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সকালেও সাতখামাইর এলাকার একটি রিসোর্টের ভাড়া করা কক্ষে নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কিশোরী জানতে পারে, অভিযুক্ত ইমরান বিবাহিত। এরপর ওই কিশোরী অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

কিশোরীর বাবার অভিযোগ, সম্পর্ক ছিন্ন করার পর তার মেয়ের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমুর মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের কাছেও কথিত ছবি-ভিডিও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, গত ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার বড় মেয়ের দেবর শফিকুল ইসলাম বিষয়টি তাকে জানান। পরে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এরপর মেয়ের নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শ্রীপুর মডেল থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কিশোরীর পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কথিত ছবি-ভিডিও অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইমরানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম দৈনিক ঢাকার ডাক কে বলেন, “এ ঘটনায় আমি এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।” অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত কারণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।