ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদরাসা প্রধানের অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সেই সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত

মাদরাসা প্রধানের অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সেই সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত

 

রাজশাহী ব্যুরো: মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদরাসা প্রধান গোলাম মোস্তফা’র নারীসহ অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের। সেই ঘটনার জেরে ভাইরাল হওয়া সেই সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মাদরাসার সহকারী সুপার মো. ইছাহাক আলীকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি শারীরিক সমস্যার কারণে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অন্তরঙ্গ সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুধু আলোচনা-সমালোচনা নয় সারাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তরঙ্গের ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। মাদরাসার শিক্ষকরা সুপারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে গোলাম মোস্তফাকে চাকরিচ্যুত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর একটি প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন মাদরাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। গোলাম মোস্তফার এমন দাবির বিষয়ে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ওবাইদুল্লাহ প্রশ্ন তুলে বলেন, ভিডিওতে যা দেখা গেছে, সেটিকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করা কতটা যৌক্তিক? সেদিনের ঘটনা যদি সত্যিই ফাঁসানো হতো তাহলে আমার বাড়ি বায়াতে, তাহলে আমাকে কেন ডাকা হলোনা? উনার সাথে এমন হয়েছে জানলে আমি দু-একশো ছেলে পেলে হাজির করতাম! তার এমন যুক্তি মেনে নেওয়ার না।

এ বিষয়ে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসারুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা সভা করে সুপারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরবর্তী বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারও বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তদন্তের ব্যাপারে তিনি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে সাময়িক বরখাস্তের পর গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।