ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ , আজকের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি করেছে ট্রাফিক বিভাগ

রাজশাহীতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন বিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি করেছে ট্রাফিক বিভাগ

রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার মো: জিললুর রহমান যোগদানের পর নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমুল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সড়কশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্বিঘ্নে নাগরিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরএমপি একের পর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১০ডিসেম্বর) যানজট কমানো ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অটোরিক্সা চালকদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে মহানগর ট্রাফিক বিভাগ। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী প্রায় ৫০ জন অটোরিক্সা চালক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন আরএমপি ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নূর আলম সিদ্দিকী। তিনি নগরে সুশৃঙ্খল যান চলাচল বজায় রাখতে চালকদের আরও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোথায় গাড়ি থামানো যাবে ও কোথায় যাবে না, ব্যস্ত এলাকায় কিভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে গাড়ি চালাতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেনসহ বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বহন, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে বলে তিনি অংশগ্রহণকারীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

অটোরিক্সা চালকদের মনোযোগী অংশগ্রহণ দেখে কর্মকর্তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। চালকেরাও ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আলোচনা শেষে চালকদের মাঝে ট্রাফিক আইন সংক্রান্ত ২২ ধারা নির্দেশনামূলক লিফলেট বিতরণ করেন ট্রাফিকের উপ-পুলিশ কমিশনার নুর-আলম সিদ্দিকী।

এদিকে আরএমপির নতুন পুলিশ কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজশাহীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তার নেতৃত্বে রাতভর টহল জোরদার করা হয়েছে, ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, গণপরিবহন চালকদের নিয়মিত কাউন্সেলিং এর উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ করা হয়েছে, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে সতর্কতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত নির্দেশা দিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এসব কার্যক্রমের ফলে রাজশাহীর সাধারণ জনগণ নির্বিঘ্নে চলাচল ও বসবাস করতে পারছেন বলে মত ব্যক্ত করছে স্থানীয় নাগরিকরা। ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে চালকদের আক্ষেপ থাকলেও অপরাধ দমন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। তাদের দাবি, গাড়ি আটক, মামলা ও জরিমানার ক্ষেত্রে আরও সহনশীলতার পরিচয় দিবে হবে।

পরে মহানগর ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা (ইন্সপেক্টর) বলছেন, নিয়মিত এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু থাকলে শহরে যানজট ও দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং একটি আধুনিক, নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে সিটি কর্পোরেশনকে। এজন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ব্যাটারি চালিত রিক্সায় আলাদা রঙ করা, রিক্সার নিবন্ধনে কঠোরতা, নিয়মিত অভিযান পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশের লোকবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমাদের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে শহরে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করছে।