ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুরে পুলিশের সামনে ঘুরছেন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

 

রাজশাহীর মোহনপুরে পুলিশের সামনে ঘুরছেন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

 

রাজশাহী ব্যুরো: পুলিশের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে ঘুরছে একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা আসামী। তবুও ধরা তো দুরের কথা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ কিছুই জানেনা। অথচ প্রায় বছর খানেক আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ এসেছে থানায়। ঘটনাটি রাজশাহীর মোহনপুর থানার।

গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী শাহীন আলমকে দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে আসামী শাহীন আলমের পাশে মোহনপুর থানা পুলিশের একাধিক সদস্যকে দেখা যায়। কিন্তু আসামীকে গ্রেফতার না করে পুলিশ নিবর ভুমিকা পালন করছে। তবে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান উপস্থিত হলে আসামীর দাম্ভিকতা বাড়তে দেখা যায়। এমন দৃশ্য প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী শাহীন আলম (৪৫) উপজেলার হরিদাগাছি গ্রামের ইসমাইল স্বর্ণকারের ছেলে।

ব্যাংক ও আদালত সূত্র বলছে, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলার সাজা হয়েছে।
মামলাগুলো রাজশাহীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর সিআর মামলা নম্বর ২৩৭/১৯-এ দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও বিজ্ঞ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-২ আদালতের সিআর মামলা নম্বর ২৯৮/১৮-এ একই আইনের ১৩৮ ধারায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। বিজ্ঞ জেলা যুগ্ন জজ-১ আদালতের দায়রা নাম্বার ৮১৮/২০। এই মামলায় ছয় মাসের কারাদন্ড ও ৫,৮০,৩৪১ টাকা। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪ এর দায়রা নাম্বার ৮০৫/২০। এই মামলাতেও ছয় মাসের কারাদন্ড ও ২,৩১,৩৮৬ টাকা অর্থদন্ড করা। তবে ৮১৮ ও ৮০৫/২০ আপিল করলে একটির আপিল খারিজ করে দেয় আদালত। মোহনপুর থানার এফআইআর নম্বর ৩/১৭৮, তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৭ জিআর মামলা নম্বর ১৭৮-এ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এই মামলায় আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২৯ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৯০ টাকা অর্থঋণ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব মামলায় সাজা হওয়ার পরও শাহীন আলমকে প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। তারা (স্থানীয়) বলছে, নিশ্চয় মোহনপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান ওই আসামিকে না ধরার শর্তে দফারফা করেছেন! তা নাহলে একজন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টের আসামী কিভাবে থানা গেট, উপজেলা চত্বর, ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি অবাধে চলাফেরা করছেন?

এদিকে মামলার বাদীপক্ষ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: কেশরহাট শাখার ম্যানেজার মো: আবু বাকার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আসামীকে ধরার জন্য বারবার অনুরোধ জানালেও পুলিশ একের পর এক টাল বাহানা করছেন। পুলিশ বাকারকে জানান, আমরা আসামী খুঁজে পাচ্ছিনা, আপনারা দেখিয়ে দেন। তারপরও আজ ধরব, কাল ধরব বলে কালক্ষেপণ করছেন থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে মোহনপুর থানার অফিসার কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আসামীকে আমার চেনা নাই। ওয়ারেন্ট আছে কিনা তাও জানিনা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
পরে ওসির এমন উদাসিতা দেখে কথা হয় জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশীদের সাথে। তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনা তার জানা নেই। আপনি (প্রতিবেদক) অফিসে, আমাকে ওয়ারেন্টের তথ্য প্রমানগুলো দিলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এমন কর্মকান্ড নিয়ে সচেতন মহল বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আদালতে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে যেকোন অনুষ্ঠানে অংশ নিলে এবং তাকে গ্রেফতার না করা হলে সেটি পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।