রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীসহ পুরো উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আড়াই হাজার শয্যায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। তাই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার কাজ করছে।
কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী দুটিতে সারা বছর পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জনসভায় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রস্তাবিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে একাডেমিক কার্যক্রম চালু এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আড়াই হাজার শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড চালু, রাজশাহী চিনিকল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং নতুন কলকারখানা স্থাপনের দাবি জানান।
সংসদ সদস্যদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আড়াই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ৪০ লাখ কৃষককে ফার্মার কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ফার্মার কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকেও ধারণ করে। জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকার পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জনসভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, তাঁরা বিএনপি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখতে চান কি না এবং খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব চান কি না। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের সঙ্গে নিজের পরিবারের রাজনৈতিক স্মৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মাঠে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনসভা করেছেন, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জনসভা করেছেন। এবার তিনিও একই মাঠে উপস্থিত হয়ে রাজশাহীসহ পুরো উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘোষণায় রাজশাহীর স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, নদী ব্যবস্থাপনা ও শিল্পায়নের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, নির্ধারিত সময়সীমা ও অর্থায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।