রাজশাহী আদালতে সহায়ক কর্মচারী অপ্রতুল, ৮ মাসে মামলা নিষ্পত্তির হার ১৩০ শতাংশ
রাজশাহী ব্যুরো: সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা অতি নগণ্য হলেও রাজশাহী মহানগর আদালতে গত আট মাসে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশ হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের অর্ধবার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ এসব বিষয় উঠে আসে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাঃ ইমদাদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক আশরাফুন্নাহার রীটা।
সম্মেলনে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউল্লাহ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-১ম আদালতের বিচারক মোঃ জাহিদ হাসান।
মূল প্রবন্ধে মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, মহানগর আদালতে সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা অতি নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও গত আট মাসে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশ। সম্মেলনে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আলামত সংরক্ষণ ও ধ্বংস, রাসায়নিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও জখমি রিপোর্টের গুরুত্ব, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তাধীন মামলা, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা, আদালত চলাকালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, আদালত ভবন এবং আদালত চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে অতিথিরা সম্মেলনটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মত দেন। মহানগর দায়রা জজের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিচারিক কার্যক্রম তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
সম্মেলনে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক হোসেন, ডিসি (প্রসিকিউশন) মোঃ আবুল কালাম সাহিদ, ডিসি (ডিবি), সিআইডি ও পিবিআইয়ের প্রতিনিধিসহ আরএমপির ১২টি থানার অফিসার ইনচার্জ, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গণপূর্ত, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিজিবি, বিএসটিআই, কারাগার ও নেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সম্মেলনে অংশ নেন।