ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লটকন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত

 

হাবিব হাসান, ভালুকা(ময়মনসিংহ)ঃ যে মানুষটি একসময় বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করে সংসারের হাল ধরতেন, আজ তিনি পরিচিত একজন সফল লটকন চাষি হিসেবে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের হাফেজ রোকনউদ্দিন প্রমাণ করেছেন, আন্তরিক চেষ্টা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষিও হতে পারে সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা।

প্রায় আট বছর আগে মাত্র ৩০টি লটকনের চারা রোপণ করে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। প্রথমদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু হতাশ না হয়ে তিনি ফলনশীল গাছ নির্বাচন, কলম তৈরি ও পরিচর্যার নানা কৌশল নিজেই রপ্ত করেন।

সেই প্রচেষ্টার ফলেই আজ তাঁর চার বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে দুটি বাণিজ্যিক লটকনের বাগান। তাঁর নির্বাচিত উন্নত জাতটি স্থানীয়ভাবে ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলো থোকায় থোকায় পাকা লটকনে ভরে আছে। ফলের ভারে অনেক ডাল মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

বাগানের এমন দৃশ্য দেখতে যেমন মন ভরে যায়, তেমনি ব্যবসায়ীদের কাছেও এটি আকর্ষণের কেন্দ্র। মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নিচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নত জাতের কলম সংগ্রহে প্রতিদিনই আসছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক।
হাফেজ রোকনউদ্দিন বলেন, “শুরুতে অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় ভালো ফলন পাইনি।

তখন নিজেই কলম করার পদ্ধতি শিখি। পরে ভালো ফলন দেওয়া গাছ থেকে কলম তৈরি শুরু করি। এখন শুধু ফল নয়, কলম বিক্রিও আমার আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে।”
তিনি জানান, এক বছরের কলম ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ লটকন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “রোকনউদ্দিনের বাগানের লটকনের ফল বড়, মিষ্টি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই তাঁর কাছ থেকে ১০০টি কলম কিনেছি। ভবিষ্যতে আরও বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, “লটকন চাষে ভালুকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জলবায়ু এই ফলের জন্য উপযোগী। রোকনউদ্দিনের মতো উদ্যোক্তারা উন্নত জাতের কলম উৎপাদন করে অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ইমামতির পেশা থেকে কৃষি উদ্যোক্তা—হাফেজ রোকনউদ্দিনের এই পথচলা এখন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। তাঁর বাগান দেখেই অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ বাড়লে ভালুকা একসময় উন্নত মানের লটকন উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।