ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ কুষ্টিয়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফডারশনর বিশাল গণমিছিল ও সমাবশ অনুষ্ঠিত নাগরপুরে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়তে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু দৌলতপুরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ইউনিট পরিদর্শন নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

লালপুরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলাবদ্ধতায় অচল, চিকিৎসা সেবায় হতাশ রোগীরা 

লালপুরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলাবদ্ধতায় অচল, চিকিৎসা সেবায় হতাশ রোগীরা

এ জেড সুজন, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

অবিরাম বৃষ্টিতে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন জলাবদ্ধতায় নাকাল। হাসপাতালের আঙিনা থেকে শুরু করে প্রবেশপথ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

মানুষের চিকিৎসা সেবার জায়গা আজ যেন অবহেলার প্রতীক। মূল ফটকে জামাকাপড় শুকানো হয়, আঙিনায় কাদা-পানি জমে থাকে, কোথাও আবার গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়। এমনকি হাসপাতালের সামনেই স্থানীয় যুবক জাল পেতে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ এ হাসপাতালের ওপর ভরসা করলেও বাস্তবে এখানে নেই চিকিৎসক, নেই ওষুধ, নেই জনবল।

মোহরকয়া গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “হাসপাতালে আসলে পানিতে ডুবতে হয়। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই। চিকিৎসা না পেয়ে শুধু হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়।”

স্থানীয় লুতফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটা এখন মানুষের নয়, বরং গরু-ছাগলের খোঁয়াড়। দরজা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।”

পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রুবেল আলী জানান, “জলাবদ্ধতা আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে চিকিৎসা দেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। মশা-মাছির উৎপাত রোগীদের আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।”

অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাবিয়া বেগম বলেন, “সরকারি চাকরি নেই, তবু প্রতিদিন কাজ করি। কিন্তু রাস্তা ডুবে গেলে কাজ করা যায় না।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। স্যাকমো ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য, ফার্মাসিস্টও প্রেষণে নাটোর সদর হাসপাতালে আছেন। সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাসে কতটা ভরসা রাখতে পারবেন সাধারণ মানুষ?

বিলমাড়িয়া গ্রামের প্রবীণ দুলাল মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “এই হাসপাতাল চালু থাকলে গ্রামের মানুষের কত উপকার হতো। এখন শুধু ভবন আছে, চিকিৎসা নেই।”

গ্রামীণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা আজ অবহেলায় থমকে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামো সংস্কার ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ছাড়া বিলমাড়িয়ার মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জৈন্তাপুর সারী ৩ বালু মহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রমান মেলেনি, সরেজমিন পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসন

লালপুরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলাবদ্ধতায় অচল, চিকিৎসা সেবায় হতাশ রোগীরা 

আপডেট টাইম : ০৭:১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

লালপুরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলাবদ্ধতায় অচল, চিকিৎসা সেবায় হতাশ রোগীরা

এ জেড সুজন, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

অবিরাম বৃষ্টিতে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন জলাবদ্ধতায় নাকাল। হাসপাতালের আঙিনা থেকে শুরু করে প্রবেশপথ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

মানুষের চিকিৎসা সেবার জায়গা আজ যেন অবহেলার প্রতীক। মূল ফটকে জামাকাপড় শুকানো হয়, আঙিনায় কাদা-পানি জমে থাকে, কোথাও আবার গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়। এমনকি হাসপাতালের সামনেই স্থানীয় যুবক জাল পেতে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ এ হাসপাতালের ওপর ভরসা করলেও বাস্তবে এখানে নেই চিকিৎসক, নেই ওষুধ, নেই জনবল।

মোহরকয়া গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “হাসপাতালে আসলে পানিতে ডুবতে হয়। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই। চিকিৎসা না পেয়ে শুধু হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়।”

স্থানীয় লুতফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটা এখন মানুষের নয়, বরং গরু-ছাগলের খোঁয়াড়। দরজা বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।”

পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রুবেল আলী জানান, “জলাবদ্ধতা আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে চিকিৎসা দেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। মশা-মাছির উৎপাত রোগীদের আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।”

অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাবিয়া বেগম বলেন, “সরকারি চাকরি নেই, তবু প্রতিদিন কাজ করি। কিন্তু রাস্তা ডুবে গেলে কাজ করা যায় না।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। স্যাকমো ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য, ফার্মাসিস্টও প্রেষণে নাটোর সদর হাসপাতালে আছেন। সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাসে কতটা ভরসা রাখতে পারবেন সাধারণ মানুষ?

বিলমাড়িয়া গ্রামের প্রবীণ দুলাল মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “এই হাসপাতাল চালু থাকলে গ্রামের মানুষের কত উপকার হতো। এখন শুধু ভবন আছে, চিকিৎসা নেই।”

গ্রামীণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা আজ অবহেলায় থমকে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামো সংস্কার ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ছাড়া বিলমাড়িয়ার মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।