ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক , আপলোডের সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

সরকারি দামে সিলিন্ডার মেলা ভার: ভেড়ামারায় এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ ভোক্তা

‎হেলাল মজুমদার কুষ্টিয়া
‎ভেড়ামারায় সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। সিলিন্ডারপ্রতি সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে।
‎৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ১,৫৮৫ টাকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায়। বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটার এক কৌশল।
‎
‎বাজারের খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দাম ১৫৮৫ টাকা ঠিক করে দিলেও আমরা তো আর এই দামে ডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছি না। আমাদের প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ১৯৫০ টাকা দিয়ে। পরিবহন খরচ আর দোকান ভাড়া হিসাব করলে ২ হাজার টাকার নিচে বেচলেই লস। ডিলাররা কম দামে দিলে আমরাও সরকার নির্ধারিত দামে বেচতে পারি।
‎
‎দোকানদার আল-আমিন হোসেনের গলায় একই সুর। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম। ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব কোম্পানি থেকে আমরা মালামাল আনি, তারা আমাদের রসিদ ছাড়া বেশি দাম ধরে। আমরা তো বেশি দামে কিনে কম দামে বেচতে পারব না।
‎
‎তবে বিক্রেতাদের এমন অজুহাত মানতে নারাজ সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিভিতে আর পেপারে দেখি সরকার দাম কমায় বা একটা নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেয়। কিন্তু বাজারে এলে সেই দামের কোনো হদিস পাওয়া যায় না। আজ ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনলাম ২,১০০ টাকায়। আমাদের মতো নির্ধারিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‎
‎অন্য এক ক্রেতা গৃহিণী সুলতানা রাজিয়া বলেন, দোকানে গেলেই বলে সিলিন্ডার নেই, সংকট। কিন্তু ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিতে রাজি হলেই ভেতর থেকে সিলিন্ডার বের করে দেয়। এটা পুরোপুরি সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কেউ বাজারে এসে তদারকি করে না বলেই এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
‎
‎এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বাজারে কড়া মনিটরিং ও অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎