ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ দৌলতপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীতে জ্বালানি তেল বণ্টনে এসিল্যান্ডের কঠোর নজরদারি মান্দায় ভ্রাম্যমান আদালতের অবিযানে ৪টি গাড়িকে জরিমানা দৌলতপুরে রাতের আঁধারে মজুদ তেল বিক্রির অভিযোগ; অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেই রণক্ষেত্র, দুজনের অবস্থা গুরুতর গৌরনদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ দশমিনায় ট্রান্সফর্মারে ব্যবহারিত চোরাই তৈল উদ্ধার, মালিক পালাতক। দশমিনায় স্কাউট দিবস পালন রাজশাহীতে হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে গিয়ে পুলিশ সদস্যের দুই-পা বিচ্ছিন্ন

নওগাঁয় জাতীয় স্মার্ট কার্ড বিতরণে নানা অজুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে জাতীয় স্মার্ট কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা লোকেরা নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন এসব অনিয়ম আর হবেনা। কিন্তু কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা টাকা নেয়া।

স্মার্ট কার্ড নিতে আসাদের তালিকা বের করতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা ও যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩৮০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার কোন রসিদ দেয়া হচ্ছেনা। এভাবে ইতোমধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এসব দৃশ্য।

কার্ড বিতরণ কেন্দ্রের ভিতরে একটি ঘরের সামনে ব্যানারে লেখা ‘হারানো আইডি কার্ডের সরকারী চালানের টাকা জমা নেয়া হয়।’ সামনে অনেক নারী-পুরুষের ভীড়। তারা জানালেন তাদের সবারই আগের আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। তাই এখানে টাকা জমা দিয়ে নতুন স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছেন।

সেখানে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আল মাহমুদ। তিনি জানালেন যাদের কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নতুন কার্ডের জন্য ব্যাংকে ৩৪৫ টাকা জমা দিতে হবে। বিকাশে জমা দিলে ৩৫১ টাকা লাগবে। আর রিপোর্ট প্রিন্ট করতে হবে। তাই সব মিলিয়ে
৩৮০ টাকা নিচ্ছেন।

একটু আগে নেয়া টাকাগুলো তিনি জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখে নিয়েছি। পরে জমা দিব।’ পাশের রুমে দেয়া হচ্ছিল নতুন স্মার্ট কার্ড। কারও কাছ থেকে পুরাতন আইডি কার্ড জমা নেয়া হচ্ছেনা। বরং প্রত্যেকের পুরাতন আইডি কার্ড দেখে তাতে স্পাঞ্জ মেশিন দিয়ে ফুটো করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে।

যেহেতু পুরাতন আইডি কার্ড প্রয়োজন হচ্ছেনা, সেহেতু নতুন করে টাকা জমা দিয়ে তা তোলার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেহেতু নতুন করে পুরাতন আইডি কার্ড ইস্যু করছেনা, সেহেতু তার টাকাও নিতে পারেন না। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন করে তা নিতে হলে থানায় জিডি করতে হবে।

এরপর সোনালী ব্যাংকে চালানে স্বাভাবিক নিয়মে ২৩০ টাকা আর জরুরী ভিত্তিতে হলে ৩৪৫ টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি জমা দিলে ডুপ্লিকেড আইডি কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, অপারেটররা তাদের পারিশ্রমিকসহ ৩৮০ টাকা নিচ্ছে। কার্ড বিতরণ শেষে তারা সে টাকা একবারে ব্যাংকে জমা দিবে। এভাবে কতজনের টাকা জমা নেয়া হয়েছে এবং সে টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া কিভাবে নিশ্চিত হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের কেউই থানায় জিডি করেননি। তাদের ডুপ্লিকেড আইডিও তোলা হয়নি। শুধু টাকা জমা নিয়ে কিভাবে স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে এরও কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান জানান, যারা স্লিপ দিয়ে ১০ টাকা করে নিচ্ছিলেন তাদেরকে তিনি কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অপারেটররা আর চালানের টাকা জমা নিবেন না বলেও জানান।

যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নামে ডুপ্লিকেড কার্ড ইস্যু না করলেও চালানে টাকা জমা দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইন আছে, তাই দিতে হবে। এব্যাপারে আমি ঢাকায় একবার কথা তুলে আমার চাকরি হারাতে বসেছিলাম। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত এটা চলবে।’

উল্লেখ্য, এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ লক্ষ ১১ হাজার ৬৭২ জনের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাদেবপুর সদর, চেরাগপুর ও খাজুর
ইউনিয়নে বিতরণ শেষ হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

নওগাঁয় জাতীয় স্মার্ট কার্ড বিতরণে নানা অজুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

আপডেট টাইম : ০৭:২১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অক্টোবর ২০২১

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে জাতীয় স্মার্ট কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা লোকেরা নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন এসব অনিয়ম আর হবেনা। কিন্তু কোন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা টাকা নেয়া।

স্মার্ট কার্ড নিতে আসাদের তালিকা বের করতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা ও যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩৮০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার কোন রসিদ দেয়া হচ্ছেনা। এভাবে ইতোমধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এসব দৃশ্য।

কার্ড বিতরণ কেন্দ্রের ভিতরে একটি ঘরের সামনে ব্যানারে লেখা ‘হারানো আইডি কার্ডের সরকারী চালানের টাকা জমা নেয়া হয়।’ সামনে অনেক নারী-পুরুষের ভীড়। তারা জানালেন তাদের সবারই আগের আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। তাই এখানে টাকা জমা দিয়ে নতুন স্মার্ট কার্ড নিতে এসেছেন।

সেখানে কাজ করছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আল মাহমুদ। তিনি জানালেন যাদের কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নতুন কার্ডের জন্য ব্যাংকে ৩৪৫ টাকা জমা দিতে হবে। বিকাশে জমা দিলে ৩৫১ টাকা লাগবে। আর রিপোর্ট প্রিন্ট করতে হবে। তাই সব মিলিয়ে
৩৮০ টাকা নিচ্ছেন।

একটু আগে নেয়া টাকাগুলো তিনি জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখে নিয়েছি। পরে জমা দিব।’ পাশের রুমে দেয়া হচ্ছিল নতুন স্মার্ট কার্ড। কারও কাছ থেকে পুরাতন আইডি কার্ড জমা নেয়া হচ্ছেনা। বরং প্রত্যেকের পুরাতন আইডি কার্ড দেখে তাতে স্পাঞ্জ মেশিন দিয়ে ফুটো করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে।

যেহেতু পুরাতন আইডি কার্ড প্রয়োজন হচ্ছেনা, সেহেতু নতুন করে টাকা জমা দিয়ে তা তোলার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেহেতু নতুন করে পুরাতন আইডি কার্ড ইস্যু করছেনা, সেহেতু তার টাকাও নিতে পারেন না। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন করে তা নিতে হলে থানায় জিডি করতে হবে।

এরপর সোনালী ব্যাংকে চালানে স্বাভাবিক নিয়মে ২৩০ টাকা আর জরুরী ভিত্তিতে হলে ৩৪৫ টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি জমা দিলে ডুপ্লিকেড আইডি কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, অপারেটররা তাদের পারিশ্রমিকসহ ৩৮০ টাকা নিচ্ছে। কার্ড বিতরণ শেষে তারা সে টাকা একবারে ব্যাংকে জমা দিবে। এভাবে কতজনের টাকা জমা নেয়া হয়েছে এবং সে টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া কিভাবে নিশ্চিত হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের কেউই থানায় জিডি করেননি। তাদের ডুপ্লিকেড আইডিও তোলা হয়নি। শুধু টাকা জমা নিয়ে কিভাবে স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে এরও কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান জানান, যারা স্লিপ দিয়ে ১০ টাকা করে নিচ্ছিলেন তাদেরকে তিনি কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অপারেটররা আর চালানের টাকা জমা নিবেন না বলেও জানান।

যাদের পুরাতন আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে তাদের নামে ডুপ্লিকেড কার্ড ইস্যু না করলেও চালানে টাকা জমা দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আইন আছে, তাই দিতে হবে। এব্যাপারে আমি ঢাকায় একবার কথা তুলে আমার চাকরি হারাতে বসেছিলাম। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত এটা চলবে।’

উল্লেখ্য, এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ লক্ষ ১১ হাজার ৬৭২ জনের স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাদেবপুর সদর, চেরাগপুর ও খাজুর
ইউনিয়নে বিতরণ শেষ হয়েছে।