ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আপনি কি বয়সের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন? মিলিয়ে নিন এই ৮টি লক্ষণ ফিলিপনগরে ‘মেধাযাত্রা–২০২৬’, ৪৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, সংবর্ধিত ৪০ কৃতী শিক্ষার্থী কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শীঘ্রই  স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচী নিয়ে আসছে অর্ধশতাধিক সামাজিক  সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে বিজিবি জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সেরা প্রতিবেদক নির্বাচিত সাংবাদিক আছানুল হক কালীগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত, গ্রেফতার ০৩ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে ডিমলায় জনতার ঢল নাগরপুরে বিজয়া দশমীর মেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিসর্জন সম্পন্ন যশোরের লালদীঘিতে ভক্তদের অশ্রুসিক্ত বিদায় আসছে বছরের অপেক্ষা, নৌকায় চড়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা

ঈদের ছুঁটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট ব্যুরো: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুঁটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুঁটে আসছেন জাফলং, সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও পান্তুমাইসহ জেলার বিভিন্ন নৈসর্গিক স্থানে।

সোমবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব পর্যটনকেন্দ্র ছিল পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, বিছানাকান্দির বিস্তীর্ণ পাথুরে প্রান্তর, পাহাড়ি ঝর্ণা এবং রাতার গুলের অনন্য জলাবন-সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে স্থানগুলো হয়ে উঠেছে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। একই সঙ্গে নগরীর আশপাশের চা বাগান এলাকাগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

বিশেষ করে লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানে ঈদের দিন থেকেই শুরু হয় দর্শনার্থীদের ঢল। সবুজ চা-বাগানের শান্ত পরিবেশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো।
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। নৌকার মাঝি, হোটেল- রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

জাফলংয়ের নৌকা মাঝি ছালাম মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগে আয় একেবারেই কম ছিল। এখন পর্যটক বাড়ায় প্রতিদিন ভালো আয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ‘ঈদের দিন থেকেই দোকানে ভিড় বেড়েছে। পানি, খাবার ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের সঙ্গে কিছু সমস্যাও সামনে এসেছে। অনেক জায়গায় যানজট, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সড়কের বেহাল অবস্থার অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।

সিলেট নগরী থেকে জাফলং ঘুরতে যাওয়া পর্যটক আলমগীর বলেন, ‘জায়গাগুলো সত্যিই দারুণ, তবে বিছানাকান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা হতাশাজনক। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জাফলং জোনের ইনচার্জ বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আপনি কি বয়সের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন? মিলিয়ে নিন এই ৮টি লক্ষণ

ঈদের ছুঁটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল

আপডেট টাইম : ০২:৪১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট ব্যুরো: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুঁটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুঁটে আসছেন জাফলং, সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও পান্তুমাইসহ জেলার বিভিন্ন নৈসর্গিক স্থানে।

সোমবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব পর্যটনকেন্দ্র ছিল পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, বিছানাকান্দির বিস্তীর্ণ পাথুরে প্রান্তর, পাহাড়ি ঝর্ণা এবং রাতার গুলের অনন্য জলাবন-সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে স্থানগুলো হয়ে উঠেছে আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। একই সঙ্গে নগরীর আশপাশের চা বাগান এলাকাগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

বিশেষ করে লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানে ঈদের দিন থেকেই শুরু হয় দর্শনার্থীদের ঢল। সবুজ চা-বাগানের শান্ত পরিবেশে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো।
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। নৌকার মাঝি, হোটেল- রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

জাফলংয়ের নৌকা মাঝি ছালাম মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগে আয় একেবারেই কম ছিল। এখন পর্যটক বাড়ায় প্রতিদিন ভালো আয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ‘ঈদের দিন থেকেই দোকানে ভিড় বেড়েছে। পানি, খাবার ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের সঙ্গে কিছু সমস্যাও সামনে এসেছে। অনেক জায়গায় যানজট, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সড়কের বেহাল অবস্থার অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।

সিলেট নগরী থেকে জাফলং ঘুরতে যাওয়া পর্যটক আলমগীর বলেন, ‘জায়গাগুলো সত্যিই দারুণ, তবে বিছানাকান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা হতাশাজনক। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জাফলং জোনের ইনচার্জ বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।