ব্রাহ্মণবাড়িয়া, প্রতিনিধিঃ কৃষকের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাজারজাত এবং সংরক্ষণজনিত অপচয় কমানোর লক্ষ্যে নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনি কোল্ড স্টোরেজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নির্মিত এই সংরক্ষণাগার চালু হওয়ায় স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি কিছু সময় সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার ১অক্টোম্বর বেলা ১১ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার মডেল কমপ্লেক্স মসজিদ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিনি কোল্ড স্টোরেজটির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া -১ নাসিরনগর সংসদীয় ২৪৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরফান উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য উপজেলা বিএনপির বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজিজুর রহমান চৌধুরী, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আবু সারোয়ার, উপজেলা বিএনপি নেতা আজদু মেম্বার, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক মোঃ নাসির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ ইমরান মিয়া প্রমুখ। উপজেলা বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কৃষকেরা।
নাসিরনগর উপজেলা একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কম থাকলেও অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য বিক্রি করতে হয়। বিশেষ করে মৌসুমে একই সময়ে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যায়।
এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে কৃষকের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। আবার বিক্রি না হওয়া সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে। এমন বাস্তবতায় হাট ও বাজারের কাছে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনকে কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন এই সংরক্ষণাগারে সবজি রাখার সুযোগ থাকায় বাজারে দাম কম থাকার সময় কৃষকেরা পণ্য বিক্রি না করে কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারবেন। বাজারদর ভালো হলে সংরক্ষিত সবজি বাজারজাত করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে অপচয় কমবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ হান্নান এমপি বলেন,‘আমাদের কৃষকেরা অনেক পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু অনেক সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েন। মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালুর ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি কিছু সময় সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের উৎপাদন খরচের ন্যায্য প্রতিফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সবজি উৎপাদনে খরচের বড় একটি অংশ যায় পরিবহন ও বাজারজাতকরণে।
বাজারে দাম কম থাকলে পণ্য ধরে রাখার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। নতুন সংরক্ষণাগারটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংরক্ষণ সুবিধা পান, সংরক্ষণ খরচ যেন তাঁদের নাগালের মধ্যে থাকে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর নিয়ন্ত্রণ তৈরি না হয়—এসব বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 














