1. zillu.akash@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailynewsbangla.com : Daily NewsBangla : Daily NewsBangla
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

গবেষণা বেড়েছে রুয়েটে : উদ্ভাবন হবে নতুন প্রযুক্তি

ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২
রাজশাহী ব্যুরোঃ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) কর্তৃপক্ষ। অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় রুয়েট গবেষণাগারে বাড়ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভীড়। এতে মিলছে নতুন নতুন উদ্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রুয়েটের গবেষণার বিষয়টি দেখভাল করেন গবেষণা সম্প্রাসারণ দফতর। সম্প্রতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে এই দফতরের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে নতুন ল্যাব স্থাপন, গবেষণা ভাতা বৃদ্ধি, গবেষণার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন, নতুন নতুন গবেষণায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান। এছাড়া গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি সই হয়েছে।
২০১৮ সালের পর থেকে গবেষণার সুবিধার্থে বেশকিছু অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আরও কিছু ল্যাবের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে- মোবাইল গেমস অ্যান্ড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ল্যাব, হাইভোল্টেজ ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, রাডার অ্যান্ড স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন অ্যান্ড পাওয়ার সিস্টেম ল্যাব, হাই কম্পিউটিং ল্যাব, আইওটি ল্যাব, ন্যানো টেকনোলজি ল্যাব, রোবোটিক্স ল্যাব ইত্যাদি।
এছাড়া গবেষণা উন্নয়নের জন্য কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, মেধা স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ফেলোশিপ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কর্মসূচি, প্রকাশনা ব্যয়সহ নানা মুখী উদ্যোগ নিয়েছে রুয়েট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের নানামুখী এই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ইতিবাচক ফলও মিলছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রুয়েটে গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। চার বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে। গবেষণা খাতের বাজেটও বেড়েছে বহুগুণ।
গবেষণার পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর রুয়েটের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ও বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে, যা পরবর্তীতে দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম কুড়িয়েছে। তাদের উদ্ভাবনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে করোনাকালে  ভেন্টিলেটর তৈরি। করোনাকালে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন বাঁচাতে ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়ে। তবে এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার জন্য এই সেবা নেওয়া সম্ভব ছিল না। তখন দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা দুটি ভেন্টিলেটর তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এই উদ্ভাবন দেশের একশ’ প্রজেক্টের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ৫ম পুরস্কার অর্জন করে।
এদিকে, প্রতিবন্ধীদের জন্য তৈরি করা অত্যাধুনিক হুইল চেয়ারও দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারী মুখ দিয়ে কথা বললেই চলাচল করবে এই হুইল চেয়ার। এছাড়া অর্ধেক ঠান্ডা ও অর্ধেক গরম থাকবে এমন ফ্রিজ তৈরিও রুয়েটের গবেষকদের একটি অভাবনীয় সাফল্য। অন্যদিকে, বিদেশের মতোই তবে দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান দিয়ে তেল সাশ্রয়ী গাড়ি তৈরি করেছে রুয়েট। এই লো ফুয়েল গাড়ি জাপানে প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়। এছাড়া রুয়েটের শিক্ষার্থীদের অনেকে সফটওয়ার, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে সফলতা পেয়েছেন।
RUET-3
গবেষণার সুবিধার্থে বেশকিছু অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে কয়েকশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান না পাওয়ায় দেশে শিক্ষার মান ও উচ্চশিক্ষার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা বর্তমান উপাচার্যর নির্দেশনায় এসব সংকট দূর করে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে স্থান পেতে কাজ করছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে কাউন্সেলিং, প্রকাশনার জন্য ভ্রমণভাতা, প্রকাশনা ব্যয় প্রদানসহ বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। ইউজিসির নীতিমালাকে সামনে রেখে রুয়েটও পৃথক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে গবেষণাকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিগত তিন বছরে গবেষণাকর্ম কয়েকগুণ বেড়েছে।’
রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ও বাস্তবায়নে গবেষণার বিকল্প নেই। আর গবেষণার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোই সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই আমি রুয়েটের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করার চেষ্টা করেছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ