ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সবার জন্য -জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গৌরনদীতে পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘোড়াঘাটে পল্লী বিকাশ সহায়ক সংস্থার আয়োজনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ লালপুরে সিমেন্টের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় কৃষকের প্রতিবাদ, নির্মম পিটুনিতে ৬ দিন পর মৃত্যু” বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত সু-প্রিয় সহকর্মী, আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ঈদ মোবারক। শুরু হয়েছে কম বেশি কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত দৌলতপুরে ‘গ্যারেজের আড়ালে’ মাদকের সাম্রাজ্য: স্বপন মেকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পুলিশের যোগসাজশের দাবি স্থানীয়দের ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ লালপুরে মোটরসাইকেলের তেল না পেয়ে পেট্রোল পাম্প ঘেরাও, বিক্ষিপ্ত জনতা

৮০ বছরের এক অসহায় মায়ের জুটেনি সরকারি ঘর

মাসুদ রানা বাউফলঃ প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেতে চায় বাউফলের বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের মানবেতর জীবনযাপন করা গরীব অসহায় একটি পরিবার। সাবুপুরা গ্রামের মৃত আজাহার হাওলাদার এর ছেলে দিনমজুর নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোনো ঘর নেই। থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে।

স্থানীয়রা জানান, নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোন ঘর নেই। একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনমতে থাকেন। একটু বৃষ্টি হলে সন্তান বউ নিয়ে মানুষের ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের চারপাশে নেই কোন টিনের বেড়া। ঘরের কষ্টে বড় অসহায় দিন পাড় করছে পরিবারটি।

নাসিরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম বলেন, শেখের মাইয়া হাসিনা হগোল গরীবগো ঘর দেয়, আমারে একখান ঘর দিতে কন। মরার আগে একটা ভালো ঘরে হুইয়া মরতে চাই। হাসিনার লইগ্যা নামাজ পইড়া দোয়া করি। আল্লাহ হাসিনারে ভালো রাখবে।

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত সংসার দিনমজুর নাসিরের। ছেলে মেয়ে ৫ জন। নাসিরের মা ও স্ত্রীকে নিয়ে আট জনের সংসার চালাতে কখনো খেয়ে বা কখনো না খেয়ে দিন পাড় করতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় কোনমতে মানবেতর দিন পাড় করছে এই অসহায় পরিবারটি।

দিনমজুর নাসির কেঁদে কেঁদে বলেন, আটজন মানুষের খাওয়া জোটাতেই তো কষ্টের শেষ নেই। তার উপরে ঘরের চিন্তা তো করতেই পারি না। ঘরের অভাবে রাতে বৃষ্টি হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরের এক কোনে গিয়ে বসে থাকি। কোন কোন দিন তো রাতে ঘুমাতেই পারি না ঘরে। ঘরের চালা নেই, টিনের বেড়া নেই। কোন রকম ছাপড়া দিয়ে বাইচা আছি।

নাসির বলেন, প্রধানমন্ত্রী এত মানুষরে ঘর দেয়, আমারে একটা ঘর দিলে আমি অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে বাকি জীবনটা ঘরের কষ্ট দূর করে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারতাম। ঘরের কষ্টে আমার ছেলেমেয়েদের ঠিকমত ভালো পরিবেশের অভাবে লেখাপড়াও করাতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন রকম ছাপড়া কুঁড়ে ঘরের চালার নিচে পলিথিন দিয়েই রোদ ও বৃষ্টির পানি ফিরায় নাসির হাওলাদার। জসীম উদ্দীনের আসমানী কবিতার মত – একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে। এই অসহায়, গরীব দিনমজুর পরিবারটিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল আমিন বলেন, এখন “ক” শ্রেণির ঘরের কাজ চলছে। এটা শুধু ভূমিহীন জনগণ পাবে। সামনে “খ” শ্রেণির ঘরের তালিকার সময়ে উনি আবেদন করলে এবং তার পরিবার সত্যি অসহায় হলে আমরা যাচাই বাচাই শেষে দ্রুত সময়ের ভিতরে ঘর তুলে দেবো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সবার জন্য -জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি

৮০ বছরের এক অসহায় মায়ের জুটেনি সরকারি ঘর

আপডেট টাইম : ১২:০১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুন ২০২২

মাসুদ রানা বাউফলঃ প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেতে চায় বাউফলের বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের মানবেতর জীবনযাপন করা গরীব অসহায় একটি পরিবার। সাবুপুরা গ্রামের মৃত আজাহার হাওলাদার এর ছেলে দিনমজুর নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোনো ঘর নেই। থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে।

স্থানীয়রা জানান, নাসির হাওলাদারের থাকার মতো কোন ঘর নেই। একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনমতে থাকেন। একটু বৃষ্টি হলে সন্তান বউ নিয়ে মানুষের ঘরে আশ্রয় নেন। ঘরের চারপাশে নেই কোন টিনের বেড়া। ঘরের কষ্টে বড় অসহায় দিন পাড় করছে পরিবারটি।

নাসিরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম বলেন, শেখের মাইয়া হাসিনা হগোল গরীবগো ঘর দেয়, আমারে একখান ঘর দিতে কন। মরার আগে একটা ভালো ঘরে হুইয়া মরতে চাই। হাসিনার লইগ্যা নামাজ পইড়া দোয়া করি। আল্লাহ হাসিনারে ভালো রাখবে।

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত সংসার দিনমজুর নাসিরের। ছেলে মেয়ে ৫ জন। নাসিরের মা ও স্ত্রীকে নিয়ে আট জনের সংসার চালাতে কখনো খেয়ে বা কখনো না খেয়ে দিন পাড় করতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশিদের সহযোগীতায় কোনমতে মানবেতর দিন পাড় করছে এই অসহায় পরিবারটি।

দিনমজুর নাসির কেঁদে কেঁদে বলেন, আটজন মানুষের খাওয়া জোটাতেই তো কষ্টের শেষ নেই। তার উপরে ঘরের চিন্তা তো করতেই পারি না। ঘরের অভাবে রাতে বৃষ্টি হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরের এক কোনে গিয়ে বসে থাকি। কোন কোন দিন তো রাতে ঘুমাতেই পারি না ঘরে। ঘরের চালা নেই, টিনের বেড়া নেই। কোন রকম ছাপড়া দিয়ে বাইচা আছি।

নাসির বলেন, প্রধানমন্ত্রী এত মানুষরে ঘর দেয়, আমারে একটা ঘর দিলে আমি অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে বাকি জীবনটা ঘরের কষ্ট দূর করে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারতাম। ঘরের কষ্টে আমার ছেলেমেয়েদের ঠিকমত ভালো পরিবেশের অভাবে লেখাপড়াও করাতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন রকম ছাপড়া কুঁড়ে ঘরের চালার নিচে পলিথিন দিয়েই রোদ ও বৃষ্টির পানি ফিরায় নাসির হাওলাদার। জসীম উদ্দীনের আসমানী কবিতার মত – একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে। এই অসহায়, গরীব দিনমজুর পরিবারটিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দিয়ে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল আমিন বলেন, এখন “ক” শ্রেণির ঘরের কাজ চলছে। এটা শুধু ভূমিহীন জনগণ পাবে। সামনে “খ” শ্রেণির ঘরের তালিকার সময়ে উনি আবেদন করলে এবং তার পরিবার সত্যি অসহায় হলে আমরা যাচাই বাচাই শেষে দ্রুত সময়ের ভিতরে ঘর তুলে দেবো।