ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গৌরনদীতে পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘোড়াঘাটে পল্লী বিকাশ সহায়ক সংস্থার আয়োজনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ লালপুরে সিমেন্টের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় কৃষকের প্রতিবাদ, নির্মম পিটুনিতে ৬ দিন পর মৃত্যু” বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত সু-প্রিয় সহকর্মী, আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ঈদ মোবারক। শুরু হয়েছে কম বেশি কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত দৌলতপুরে ‘গ্যারেজের আড়ালে’ মাদকের সাম্রাজ্য: স্বপন মেকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পুলিশের যোগসাজশের দাবি স্থানীয়দের ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ লালপুরে মোটরসাইকেলের তেল না পেয়ে পেট্রোল পাম্প ঘেরাও, বিক্ষিপ্ত জনতা সিলেটে অবশেষে জমে ওঠেছে ঈদের বাজার

আকবর আলি খান আর নেই।

কাজি মোস্তফা রুমি, স্টাফ রিপোর্টার : অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। আকবর আলি খানের ভাই কবির উদ্দিন খান  এ তথ্য জানিয়েছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
আকবর আলি খানের ভাই কবির উদ্দিন খান বলেন, আকবর আলি খান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি মারা যান। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আকবর আলী খান ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের মহুকুমা প্রশাসক বা এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সাথে কাজ করেন।
২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তিনজন উপদেষ্টার সাথে একযোগে পদত্যাগ করেন।
মেধাবী শিক্ষার্থী আকবর আলি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ইতিহাস, কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি। পিএইচডি গবেষণাও অর্থনীতিতে। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার এসডিও হিসেবে পদস্থ হন।
যুদ্ধ শুরুর আগের অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সমর্থন দেন। পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে হবিগঞ্জ পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেন। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
অল্প সময়ের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে কাজ করে ১৯৯৩ এ সরকারের সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন আকবর আলি খান। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে তিনি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিকল্প কার্যনির্বাহী পরিচালক পদে যোগদান করেন। বিশ্বব্যাংকে তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।
অবসরের পর তার আবির্ভাব ঘটেছে পূর্ণকালীন লেখক হিসেবে। অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা, সাহিত্য- বিচিত্র বিষয়ে তার গবেষণামূলক বই পাঠকের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের বিকাশ নিয়ে তার ‘হিস্টোরি অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ বইটি খুব বিখ্যাত। এ ছাড়া অর্থনীতি, সাহিত্যসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। আকবর আলি খানের সর্বশেষ আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘পুরনো সেই দিনের কথা’। এই গ্রন্থে একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের জীবনের উন্মেষ ও বিকাশের কাহিনী উঠে এসেছে।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গৌরনদীতে পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান

আকবর আলি খান আর নেই।

আপডেট টাইম : ০৭:১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
কাজি মোস্তফা রুমি, স্টাফ রিপোর্টার : অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। আকবর আলি খানের ভাই কবির উদ্দিন খান  এ তথ্য জানিয়েছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
আকবর আলি খানের ভাই কবির উদ্দিন খান বলেন, আকবর আলি খান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি মারা যান। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আকবর আলী খান ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের মহুকুমা প্রশাসক বা এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সাথে কাজ করেন।
২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তিনজন উপদেষ্টার সাথে একযোগে পদত্যাগ করেন।
মেধাবী শিক্ষার্থী আকবর আলি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ইতিহাস, কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি। পিএইচডি গবেষণাও অর্থনীতিতে। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার এসডিও হিসেবে পদস্থ হন।
যুদ্ধ শুরুর আগের অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সমর্থন দেন। পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে হবিগঞ্জ পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেন। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
অল্প সময়ের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে কাজ করে ১৯৯৩ এ সরকারের সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন আকবর আলি খান। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে তিনি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিকল্প কার্যনির্বাহী পরিচালক পদে যোগদান করেন। বিশ্বব্যাংকে তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।
অবসরের পর তার আবির্ভাব ঘটেছে পূর্ণকালীন লেখক হিসেবে। অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা, সাহিত্য- বিচিত্র বিষয়ে তার গবেষণামূলক বই পাঠকের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের বিকাশ নিয়ে তার ‘হিস্টোরি অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ বইটি খুব বিখ্যাত। এ ছাড়া অর্থনীতি, সাহিত্যসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। আকবর আলি খানের সর্বশেষ আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘পুরনো সেই দিনের কথা’। এই গ্রন্থে একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের জীবনের উন্মেষ ও বিকাশের কাহিনী উঠে এসেছে।