ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফিরোজ কবির ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ চলছে অনলাইন প্রতারণা, প্রতারণার শিকার হয়েছে কম্বোডিয়া হাজারো প্রবাসী ​মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা, হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে চাচি রাজশাহীতে জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫ ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ’৯২ ব্যাচের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সবার জন্য -জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গৌরনদীতে পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘোড়াঘাটে পল্লী বিকাশ সহায়ক সংস্থার আয়োজনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ লালপুরে সিমেন্টের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় কৃষকের প্রতিবাদ, নির্মম পিটুনিতে ৬ দিন পর মৃত্যু” বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে  অবৈধ চায়না জালে, বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ খোঁজ রাখেনা মৎস্য অফিসার

ছবি: পদ্মা নদীর ধারে রাখা জেলেদের চায়না জাল।

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে  অবৈধ চায়না জালে, বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ খোঁজ রাখেনা মৎস্য অফিসার।


জিল্লুর রহমান, ডেইলি নিউজ বাংলা ডেক্স: কুষ্টিয়া দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ২ বছর যাবৎ অভিনব পদ্ধতিতে তৈরি করা চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদ পেতে শুরু হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ নিধন। অবৈধ ওই জাল দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা মা মাছ নিধন করলেও মৎস্য বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের নেই নজরদারী।

অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় চলতি বছরেই দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির আশংকা করছে অনেকেই। অবৈধ চায়না জালের ব্যবহারে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, খোঁজ রাখেন না দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার খন্দকার সহিদুর রহমান।

চায়না জাল বা ডারকি জাল সম্পর্কে ওই এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চীন দেশের লোকজন তাদের ক্ষেত খামারে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় নিধনের জন্য এ জাল তৈরি করে। লোহা রিং দিয়ে ঢোলক আকৃতি ও মাঝে মাঝে চতুর্ভুজ আকারের লোহা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ ফাঁদ।

একটি করে জালে ২০-৪০ টি করে খোপ আছে। বিশেষ কৌশলে এই জালের দুই মাথা খুঁটির সাথে বেঁধে ফাঁদ পেতে রাখে খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের তলদেশ দিয়ে। জালের কাঠামোতে লোহার থাকায় জালটি পানির তলদেশে পৌঁছায়। এই জাল ক্ষুদ্র ফাঁসের কারণে সেই পথ ধরে ছোট থেকে বড় যে কোন ধরণের মাছ চলাচল করলে অনায়াসে জালের ভিতরে প্রবেশ করবে।

এই জালের ফাঁদে যে কোন মাছ প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। এ জালে আটকা পড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ। এমন ছোট পোনাও আটকা পড়ে যা কোন কাজে লাগে না বলে সেগুলো ফেলে দেন মাছ শিকারিরা। ডারকি জাল দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ অবাধে নিধন করছেন।

অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন,বংশ বিস্তার ও বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে নদ-নদীতে মাছের প্রাচুর্য কমে যাচ্ছে। অচিরেই এসব জাল বন্ধ না হলে দেশের মৎস্য ভান্ডারে বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা স্থানীয়দের।

দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার কোলঘেঁষে ফিলিপনগর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিঙি নৌকা দিয়ে চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদ পেতে জেলেরা মাছ শিকার করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে ওইসব এলাকায় প্রতিটি মাছ ধরা নৌকার জেলের কাছে ১৫-২০ টি করে এই জাল রয়েছে।

চায়না জাল সম্পর্কে স্থানীয় একজন জেলের কাছে জিজ্ঞাস করলে তিনি ”ডেইলি নিউজ বাংলা”কে বলেন, আমরা বাপ দাদাদের হাত ধরে মাছ ব্যবসায় এসেছি। মাছ শিকার আমাদের প্রধান পেশা। স্থানীয়ভাবে আমাদের মাঝি বলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সারাদিন নদী থেকে যা মাছ পেতাম তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চলত। এখন আর ডারকি জালের জন্য মাছ পাওয়া যায় না। যারা কখনও মাছ ব্যবসায় আসেনি এখন তারাও ডারকি জাল নদীতে ফেলে রাখে। আর ওইসব জায়গায় আমরা জাল ফেলতে পারি না।

এ নিয়ে বিভিন্ন জনের মাঝে মধ্যে সাথে ঝগড়া ঝাটিও হয়। অপেশাদার অনেকে ডারকি জাল নদীতে ফেলে রাখে, আগের মত মাছও আয়ও হয় না। গ্রামের অনেকেই মৎস্যজীবী মানুষ চরম দুর্দিনে পড়েছেন।

এবিষয়ে জেলে আনছের আলী বলেন, আমি ২০ বছর ধরে মাছ শিকার করছি। কিন্তু এবছরের ন্যায় মাছের সংকট আগে দেখিনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়,তবে আগামী প্রজন্ম মাছ কাগজ-কলমে দেখবে বাস্তবে নয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার খন্দকার সহিদুর রহমান জানান, নদীতে যে চায়না জালের ব্যবহার হয় তা আমার জানান নেই। গত দুই বছরে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদী কোন অভিযান পরিচালনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, না কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি, এ ব্যাপারে তিনি দূত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফিরোজ কবির ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে  অবৈধ চায়না জালে, বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ খোঁজ রাখেনা মৎস্য অফিসার

আপডেট টাইম : ০৬:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর ২০২১

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে  অবৈধ চায়না জালে, বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ খোঁজ রাখেনা মৎস্য অফিসার।


জিল্লুর রহমান, ডেইলি নিউজ বাংলা ডেক্স: কুষ্টিয়া দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ২ বছর যাবৎ অভিনব পদ্ধতিতে তৈরি করা চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদ পেতে শুরু হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ নিধন। অবৈধ ওই জাল দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা মা মাছ নিধন করলেও মৎস্য বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের নেই নজরদারী।

অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় চলতি বছরেই দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির আশংকা করছে অনেকেই। অবৈধ চায়না জালের ব্যবহারে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, খোঁজ রাখেন না দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার খন্দকার সহিদুর রহমান।

চায়না জাল বা ডারকি জাল সম্পর্কে ওই এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চীন দেশের লোকজন তাদের ক্ষেত খামারে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় নিধনের জন্য এ জাল তৈরি করে। লোহা রিং দিয়ে ঢোলক আকৃতি ও মাঝে মাঝে চতুর্ভুজ আকারের লোহা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ ফাঁদ।

একটি করে জালে ২০-৪০ টি করে খোপ আছে। বিশেষ কৌশলে এই জালের দুই মাথা খুঁটির সাথে বেঁধে ফাঁদ পেতে রাখে খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের তলদেশ দিয়ে। জালের কাঠামোতে লোহার থাকায় জালটি পানির তলদেশে পৌঁছায়। এই জাল ক্ষুদ্র ফাঁসের কারণে সেই পথ ধরে ছোট থেকে বড় যে কোন ধরণের মাছ চলাচল করলে অনায়াসে জালের ভিতরে প্রবেশ করবে।

এই জালের ফাঁদে যে কোন মাছ প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। এ জালে আটকা পড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ। এমন ছোট পোনাও আটকা পড়ে যা কোন কাজে লাগে না বলে সেগুলো ফেলে দেন মাছ শিকারিরা। ডারকি জাল দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ অবাধে নিধন করছেন।

অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন,বংশ বিস্তার ও বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে নদ-নদীতে মাছের প্রাচুর্য কমে যাচ্ছে। অচিরেই এসব জাল বন্ধ না হলে দেশের মৎস্য ভান্ডারে বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা স্থানীয়দের।

দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার কোলঘেঁষে ফিলিপনগর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিঙি নৌকা দিয়ে চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদ পেতে জেলেরা মাছ শিকার করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে ওইসব এলাকায় প্রতিটি মাছ ধরা নৌকার জেলের কাছে ১৫-২০ টি করে এই জাল রয়েছে।

চায়না জাল সম্পর্কে স্থানীয় একজন জেলের কাছে জিজ্ঞাস করলে তিনি ”ডেইলি নিউজ বাংলা”কে বলেন, আমরা বাপ দাদাদের হাত ধরে মাছ ব্যবসায় এসেছি। মাছ শিকার আমাদের প্রধান পেশা। স্থানীয়ভাবে আমাদের মাঝি বলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সারাদিন নদী থেকে যা মাছ পেতাম তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চলত। এখন আর ডারকি জালের জন্য মাছ পাওয়া যায় না। যারা কখনও মাছ ব্যবসায় আসেনি এখন তারাও ডারকি জাল নদীতে ফেলে রাখে। আর ওইসব জায়গায় আমরা জাল ফেলতে পারি না।

এ নিয়ে বিভিন্ন জনের মাঝে মধ্যে সাথে ঝগড়া ঝাটিও হয়। অপেশাদার অনেকে ডারকি জাল নদীতে ফেলে রাখে, আগের মত মাছও আয়ও হয় না। গ্রামের অনেকেই মৎস্যজীবী মানুষ চরম দুর্দিনে পড়েছেন।

এবিষয়ে জেলে আনছের আলী বলেন, আমি ২০ বছর ধরে মাছ শিকার করছি। কিন্তু এবছরের ন্যায় মাছের সংকট আগে দেখিনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়,তবে আগামী প্রজন্ম মাছ কাগজ-কলমে দেখবে বাস্তবে নয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার খন্দকার সহিদুর রহমান জানান, নদীতে যে চায়না জালের ব্যবহার হয় তা আমার জানান নেই। গত দুই বছরে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদী কোন অভিযান পরিচালনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, না কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি, এ ব্যাপারে তিনি দূত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।