রাজশাহী ব্যুরো: টিকটকে পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হওয়া এক নারীকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজশাহীতে একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। একটি অভিযোগের পর পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে সমাধানে বাধ্য করা এবং পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে, যা নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারী নিজেই পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন, তাঁর কাছে অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত বা দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। একাধিক সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই ওই অভিযোগটি করা হয়েছিল। অভিযোগটি থানায় পৌঁছানোর পর নিয়মিত তদন্ত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে মারুফ হোসেনকে দফায় দফায় থানায় ডেকে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত কয়েকটি অডিও কল রেকর্ড ও মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে মিডিয়ার হাতে এসেছে বলে দাবি করেছেন অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকরা।
তবে প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মারুফ হোসেন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সম্প্রতি পুলিশের পোশাক পরে টিকটকে ভাইরাল হওয়া সেই নারী পুলিশের ১০ লাখ টাকা চাওয়ার ঘটনায় জড়িত আছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, তিনি শুধু এই ক্যালেঙ্কারিতে ছিলেন না, তিনি রীতিমত ম্যাসেঞ্জারে টাকার কথাও উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও পুলিশের পোশাক পরে টিকটকের ব্যাপারে মিডিয়ায় প্রকাশ হলে মারুফ হোসেনকে হুমকি ও চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভয়েস রেকর্ড ও চ্যাটের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে ওই নারীর অতীত নিয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে। সূত্র অনুযায়ী, তিনি অতীতেও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, বিরোধ ও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন।
২০২০ সালে স্বল্প মোহরানায় প্রথম বিয়ের পর দাম্পত্য টেকেনি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত মোহরানায় আবারও প্রথম স্বামীকেই বিয়ে করেন এবং বিচ্ছেদের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ্য সম্পর্কের জেরে ধর্ষণ মামলা ও পরবর্তী সমঝোতার কথাও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও এসব বিষয় এখনো অভিযোগের পর্যায়ে, তবে একাধিক ঘটনার মিল থেকে অনুসন্ধানকারীদের ধারণা, এটি একটি কথিত ব্ল্যাকমেইল চক্রের অংশ হতে পারে।
১০ লাখ টাকা চাওয়ার ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকজন সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানাজানির পর পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এরইমধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
ঘটনাটি বর্তমানে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কোনো একক ব্যক্তিকে ঘিরে নয় বরং একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে কীভাবে চাপ, ভয়ভীতি ও অর্থ আদায়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটিই বড় প্রশ্ন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হন, তাহলে সেটি আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।
তবে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যোগাযোগ করায় টিকটকে ভাইরাল হওয়া সেই নারীর সাথে। এসময় তিনি বলেন, আমার একাধিক বিয়ে হয়েছে সেটা সবাই জানে। আর মারুফ হোসেনকে আমি কোন হুমকি ধামকি দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে আমি তাদের আদালতে দেখে নিব। পরে পাশে থেকে কারো নির্দেশে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন। পরে লাইনে ক্লোজ হওয়া পুলিশদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তারা এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত না। কিন্তু কাশিয়াডাঙ্গা থানার তৎকালীন ওসি এখন পর্যন্ত অভিযোগকারির সাথে সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে এঘটনায় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসন প্রকৃত দোষীরা শাস্তির আওতায় আসবে এবং নির্দোষকে দায়মুক্ত করবে।
ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক 






















