ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত নাগরপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এক নারীকে গোপনে বিয়ে এবং অন্য নারীকে বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী সার্কেলের ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ

হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাইয়ের পর হ্যান্ডকাপ ফেরত পেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাইয়ের পর হ্যান্ডকাপ ফেরত পেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা থানার পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ এক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় হ্যান্ডকাপ উদ্ধার হলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আসামির হাতে পরানো হ্যান্ডকাপটি যদি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে খোলা হলো? সাধারণত হ্যান্ডকাপ খোলার জন্য নির্দিষ্ট চাবির প্রয়োজন হয়। ফলে চাবি কীভাবে বা কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছেছে তা নিয়েও বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
জানা যায়, রোববার (২২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়স্থ সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করে পবা থানার একটি পুলিশ টিম।
এসময় আসামির মা ও স্বজনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ৮ জন সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসময় রাসেলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে হ্যান্ডকাপটি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া গেলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পবা থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আফসার আলী (৩৭)-কে পিল্লাপাড়া মোড়স্থ উক্ত পেট্রোল পাম্পের সামনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আফসার আলী বাদী হয়ে ১৬ মার্চ পবা থানায় তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-৬।
এদিকে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারকারী জানান, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা আসামি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
হ্যান্ডকাপটি কীভাবে খোলা হয়েছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে একটি বিলের মধ্যে থেকে আসামির কাছ থেকে হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা সবসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কাজ করেন।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সরকারি নিরাপত্তা সরঞ্জাম কীভাবে সাধারণ মানুষের মাধ্যমে উদ্ধার করা হলো? সে বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার দ্বীন ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।
পরে আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হ্যান্ডকাপ বিভিন্নভাবে খোলা সম্ভব। তবে হ্যান্ডকাপটি ফেরত দেওয়া হয়েছে এটাই সত্য। পুলিশ কাউকে চাবি দেয়নি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Tag :

নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাইয়ের পর হ্যান্ডকাপ ফেরত পেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

আপডেট টাইম : ১০:৫০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাইয়ের পর হ্যান্ডকাপ ফেরত পেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামি

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা থানার পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ এক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় হ্যান্ডকাপ উদ্ধার হলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আসামির হাতে পরানো হ্যান্ডকাপটি যদি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে খোলা হলো? সাধারণত হ্যান্ডকাপ খোলার জন্য নির্দিষ্ট চাবির প্রয়োজন হয়। ফলে চাবি কীভাবে বা কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছেছে তা নিয়েও বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
জানা যায়, রোববার (২২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়স্থ সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করে পবা থানার একটি পুলিশ টিম।
এসময় আসামির মা ও স্বজনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ৮ জন সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসময় রাসেলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে হ্যান্ডকাপটি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া গেলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পবা থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আফসার আলী (৩৭)-কে পিল্লাপাড়া মোড়স্থ উক্ত পেট্রোল পাম্পের সামনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আফসার আলী বাদী হয়ে ১৬ মার্চ পবা থানায় তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-৬।
এদিকে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারকারী জানান, ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা আসামি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
হ্যান্ডকাপটি কীভাবে খোলা হয়েছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে একটি বিলের মধ্যে থেকে আসামির কাছ থেকে হ্যান্ডকাপটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা সবসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কাজ করেন।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সরকারি নিরাপত্তা সরঞ্জাম কীভাবে সাধারণ মানুষের মাধ্যমে উদ্ধার করা হলো? সে বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার দ্বীন ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।
পরে আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হ্যান্ডকাপ বিভিন্নভাবে খোলা সম্ভব। তবে হ্যান্ডকাপটি ফেরত দেওয়া হয়েছে এটাই সত্য। পুলিশ কাউকে চাবি দেয়নি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।