ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ তালা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে ধর্ষণে  প্রতিবন্ধী অন্তস্বত্বা ২২ ধারার পর গ্রেপ্তার আরো দুই  নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুল বনাম ডা. এম.এ. রেজা উচ্চ বিদ্যালয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

গোদাগাড়িতে খোলা স্থানে মুরগির বিষ্ঠা ফেলায় জনদুর্ভোগ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে ফসলের মাঠে উন্মুক্তস্থানে বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রভাশালীদের দাপটে অসহায় ঐ এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সেখানে গণমাধ্যমের একটি টিম সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অনেকেই কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন। এলাকাবাসির দাবি, রাজশাহীর সনামধন্য প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় খোলামেলা স্থানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, দুর্গন্ধযুক্ত (বিষ্ঠা ফেলা স্থান) সেই জমির পাশ দিয়েই কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। কিন্তু দুর্গন্ধের কারনে সেখান দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই যায় না। শুধু তাই নয়, মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব মাছি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে। এছাড়াও ওই এলাকার আশপাশে অসংখ্য পুকুর রয়েছে যেখানে মাছ চাষ করা হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে মাছের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস চাষীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব মুরগির বিষ্ঠা ফেলা হচ্ছে। তিনি ওই জমিগুলো আদি-বর্গা হিসেবে চাষ করে থাকেন এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে। তাই সকলেই ধারনা করছে এই হযরতের নিয়ন্ত্রনে মুরগীর বিষ্ঠাগুলো ফেলা হচ্ছে।

হযরত আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় যোগাযোগ করা হয় হযরত আলীর সাথে। হযরত আলী এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলেন। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি কমলাপুর গ্রামের মোড়ে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসময় সাংবাদিকদের সামনেই তিনি স্থানীয় ভ্যান চালককে মারতে তেড়ে যান।

এছাড়াও এলাকার কয়েকজনের দিকে মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কর্মযজ্ঞের হোতা হিসেবে নাবিল গ্রুপের নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাতের আঁধারে এগুলো ফেলে যায়!

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন।

পরে কথা হয় গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে। তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে তারপরও এরা এগুলো করছে। তারা রাতের আঁধারে এগুলো বহন করে তাই ধরা সম্ভব হয়না। তবে এবার তাদের ডাকা হয়েছে, তারা আমার কাছে আসবে।

আপনার অনুমতি নিয়ে তারা এগুলো করছে বলে অভিযুক্তরা জানাচ্ছেন, এই কথার কতটুকু সত্যতা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। তবে তিনি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবেন বলে আস্বস্ত করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ফসলি জমিতে এভাবে মুরগির বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

গোদাগাড়িতে খোলা স্থানে মুরগির বিষ্ঠা ফেলায় জনদুর্ভোগ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

আপডেট টাইম : ১২:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে ফসলের মাঠে উন্মুক্তস্থানে বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রভাশালীদের দাপটে অসহায় ঐ এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সেখানে গণমাধ্যমের একটি টিম সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অনেকেই কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন। এলাকাবাসির দাবি, রাজশাহীর সনামধন্য প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় খোলামেলা স্থানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, দুর্গন্ধযুক্ত (বিষ্ঠা ফেলা স্থান) সেই জমির পাশ দিয়েই কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। কিন্তু দুর্গন্ধের কারনে সেখান দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই যায় না। শুধু তাই নয়, মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব মাছি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে। এছাড়াও ওই এলাকার আশপাশে অসংখ্য পুকুর রয়েছে যেখানে মাছ চাষ করা হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে মাছের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস চাষীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব মুরগির বিষ্ঠা ফেলা হচ্ছে। তিনি ওই জমিগুলো আদি-বর্গা হিসেবে চাষ করে থাকেন এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে। তাই সকলেই ধারনা করছে এই হযরতের নিয়ন্ত্রনে মুরগীর বিষ্ঠাগুলো ফেলা হচ্ছে।

হযরত আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় যোগাযোগ করা হয় হযরত আলীর সাথে। হযরত আলী এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলেন। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি কমলাপুর গ্রামের মোড়ে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসময় সাংবাদিকদের সামনেই তিনি স্থানীয় ভ্যান চালককে মারতে তেড়ে যান।

এছাড়াও এলাকার কয়েকজনের দিকে মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কর্মযজ্ঞের হোতা হিসেবে নাবিল গ্রুপের নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাতের আঁধারে এগুলো ফেলে যায়!

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন।

পরে কথা হয় গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে। তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে তারপরও এরা এগুলো করছে। তারা রাতের আঁধারে এগুলো বহন করে তাই ধরা সম্ভব হয়না। তবে এবার তাদের ডাকা হয়েছে, তারা আমার কাছে আসবে।

আপনার অনুমতি নিয়ে তারা এগুলো করছে বলে অভিযুক্তরা জানাচ্ছেন, এই কথার কতটুকু সত্যতা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। তবে তিনি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবেন বলে আস্বস্ত করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ফসলি জমিতে এভাবে মুরগির বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।