ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী ওসি ও এএসআইয়ের যশোরে স্বাস্থ্য স্যানিটেশন ও আবাসন প্রকল্পের নামে ৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ৭১ নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করছে তাদের জনগন সঠিক জবাব দিবেন বললেন জুয়েল গতকাল গভীর রাতে ভারতের বাংলাদেশের নৌবাহিনীর অবৈধ ভারতের প্রবেশ ঘোড়াঘাটে অনন্য সাফল্য, একসঙ্গেই মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন যমজ দুই বোন যশোরে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত একমাস ৮ দিনের মাথায় শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিথর দেহ হয়ে ফিরছেন কর্পোরাল মোঃ মাসুদ রানা  অবশেষে বদলী হলেন সিলেট টিটিসি থেকে ক্ষমতাসীন ইন্সট্রাক্টর ওমর ফারুক তারুণ্যের ভাবনা আগামীর ভেড়ামারা কেমন চাই শীর্ষক আলোচনা সভা ভেড়ামারাতে  তিনদিন ব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন

দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম

তৃণমূল জনগোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা,দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রদান, জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেশের সমাজ সেবা অধিদপ্তর। কিন্তু, এসব সুবিধা ছড়িয়ে দিতে সিন্ডিকেট করে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ধর্মদহ এলাকার শাহানারা,হামিদা খাতুন, রিপন ইসলাম, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোর হুসাইনের পিতা হাবিবুর রহমানের মতো প্রায় সব এলাকার ভাতা প্রার্থীদের অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।

গৃহবধু রুবীয়া খাতুনের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামীর কার্ড হলেও তা পেতে তাদের খরচ গিয়েছে নগদ দশ হাজার টাকা,জানান রুবীয়া খাতুন। কিন্তু সরকারের মহৎ এই উদ্যোগে কোথায় শুষে নেয়া হচ্ছে অসহায়ের এসব টাকা! এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ভুক্তভোগীরা বলছেন, খোদ দৌলতপুর সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউকেউ জড়িয়ে আছেন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সক্রিয় থাকা চক্রের সাথে।

এক শ্রেণীর মধ্যসত্বভোগী, ভাতা প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্তদের কাছে নানা প্রলোভনে হাতিয়ে নিচ্ছেন মাথাপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, কারো কারো খরচ আবার আরও একটু বেশি। অনেকেই আবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয় এমন ব্যাক্তির আবেদন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রত্যাশিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা।

এমনকি অভিযোগ উঠেছে সিন্ডিকেটের বাইরে পড়লে ভাতা প্রার্থীর আবেদনের ফাইলও নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার। ভাতা প্রতিস্থাপন এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্টনেও অনিয়মের পাশাপাশি চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ছানোয়ার আলী। দালাল চক্রের বিষয়ে কিংবা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে বক্তব্য তার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার গণমাধ্যম কে বলেন– এধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভূক্তভোগী ও ভাতা প্রার্থীরা।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী ওসি ও এএসআইয়ের

দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম

আপডেট টাইম : ০২:০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০

তৃণমূল জনগোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা,দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রদান, জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেশের সমাজ সেবা অধিদপ্তর। কিন্তু, এসব সুবিধা ছড়িয়ে দিতে সিন্ডিকেট করে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ধর্মদহ এলাকার শাহানারা,হামিদা খাতুন, রিপন ইসলাম, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোর হুসাইনের পিতা হাবিবুর রহমানের মতো প্রায় সব এলাকার ভাতা প্রার্থীদের অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।

গৃহবধু রুবীয়া খাতুনের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামীর কার্ড হলেও তা পেতে তাদের খরচ গিয়েছে নগদ দশ হাজার টাকা,জানান রুবীয়া খাতুন। কিন্তু সরকারের মহৎ এই উদ্যোগে কোথায় শুষে নেয়া হচ্ছে অসহায়ের এসব টাকা! এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ভুক্তভোগীরা বলছেন, খোদ দৌলতপুর সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউকেউ জড়িয়ে আছেন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সক্রিয় থাকা চক্রের সাথে।

এক শ্রেণীর মধ্যসত্বভোগী, ভাতা প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্তদের কাছে নানা প্রলোভনে হাতিয়ে নিচ্ছেন মাথাপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, কারো কারো খরচ আবার আরও একটু বেশি। অনেকেই আবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয় এমন ব্যাক্তির আবেদন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রত্যাশিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা।

এমনকি অভিযোগ উঠেছে সিন্ডিকেটের বাইরে পড়লে ভাতা প্রার্থীর আবেদনের ফাইলও নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার। ভাতা প্রতিস্থাপন এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্টনেও অনিয়মের পাশাপাশি চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ছানোয়ার আলী। দালাল চক্রের বিষয়ে কিংবা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে বক্তব্য তার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার গণমাধ্যম কে বলেন– এধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভূক্তভোগী ও ভাতা প্রার্থীরা।