1. zillu.akash@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailynewsbangla.com : Daily NewsBangla : Daily NewsBangla
বৈষম্যহীন খিচুড়ি বিতরণ ব্যবস্থা - dailynewsbangla
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বৈষম্যহীন খিচুড়ি বিতরণ ব্যবস্থা লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা উপর হামলা আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল  চাপাই নবাবগঞ্জে সাংবাদিককে হত্যা চেষ্টা দৌলতপুর পাইলটের ০৭ ব‍্যাচের দেড় যুগ পূর্তিতে পুনর্মিলনী উদযাপন লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রা-সীদের গু-লিতে গু-লিবিদ্ধ এক শিশু পুলিশের কথা বলে বিএনপি ও আ’ লীগ নেতার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন বন্ধন অটুট রাখতে ফিলিপনগর হাই স্কুলের ‘এসএসসি-৯২’ ব্যাচের পুনর্মিলনী বোয়ালমারীতে ১০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন বোয়ালমারীতে ১০ গ্রামে আগামীকাল ঈদ বোয়ালমারীতে ৬ শত অসহায় পরিবার পেলো চেয়ারম্যানের ঈদ খরচ নগদ অর্থ  বোয়ালমারী

বৈষম্যহীন খিচুড়ি বিতরণ ব্যবস্থা

ডেইলী নিউজ বাংলা ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫

বৈষম্যহীন খিচুড়ি বিতরণ ব্যবস্থা

এম. মনিরুজ্জামানঃ আমাদের গ্রামটা ছিল ছবির মত। বেশ মনোরম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পদ্মা নদী। আছে বিস্তীর্ণ মাঠ , যেখানে চাষী ভাইয়েরা ফলায় সোনার ফসল। গ্রামের মাঝ বরাবর ছিল প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল, খেলার মাঠ ও বাজার। বাজারের এক প্রান্তে ছিল আশার বিখ্যাত চা স্টল। এটা ছিল ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-নিরক্ষর সবার মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে পাওয়া যেত আসার বিখ্যাত চা (এছা সুন্দর ঠান্ডা চা)। গ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য ছিল একশ বছরেরও বেশি পুরাতন ক্লাব।আজ এখানে এসে মনে হয় সব স্বপ্ন।
গ্রামের পাড়াগুলোর নামকরণের ইতিহাস সঠিকভাবে জানা না থাকলেও নামগুলো ছিল বেশ মজার। যেমন ছিল সরকার পাড়া, হিন্দু পাড়া, লাটপাড়া, পেদ্যানপাড়া, ফরাজীপাড়া, ঘোষপাড়া, হাজামপাড়া, বর্গীপাড়া, কবিরাজ পাড়া, ডোমপাড়া, সরদারপাড়া,জামাইপাড়া, পরামানিক পাড়া, হঠাৎ পাড়া, মাঠপাড়া ইত্যাদি। আমাদের শৈশব- কৈশরে (নব্বই দশকে) সব পাড়ার ছেলেদের সাথে ছিল সখ্যতা ( মারামারি, খেলাধুলা, সাঁতার কাটা)
নব্বই দশকে গ্রামে নিয়মিত ভাবে পালন করা হত ঈদে মিলাদুন্নবী। এ পর্বটা ছিল আমাদের জন্য আনন্দের। এদিনে বাড়ি থেকে আমরা ছোটরা সন্ধ্যার পরে বের হতে পারতাম। আমাদের থেকে যারা বয়সে বড় ছিল তারা এই আয়োজনের দায়িত্ব পেত । বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তারা চাল-ডাল, টাকা- পয়সা সানন্দে সংগ্রহ করত। সন্ধ্যার পর খিচুড়ি রান্না করে ছোট-বড় উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হত। আমরা মনের আনন্দে সেই খিচুড়ি অতি পরিতৃপ্তির সাথে উপভোগ করতাম। আমরা ছিলাম সহকারি। পাড়ার বড়রা সার্বিক দায়িত্ব পালন করত। আমাদের গ্রামে কাসু ও রসু (ছদ্মনাম) তারা প্রতিবছর এ দায়িত্ব পালন করত। তবে তাদের বৈষম্যমূলক বিতরণ ব্যবস্থা ছিল সবার চোখে পড়ার মতো। দেখা যেত সবাইকে এক প্যাকেট করে দিলেও তারা (কাশু ও রাসু) নিত গামলা ভর্তি করে। সবার সামনে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে যেত ভর্তি খিচুড়ি। আমরা অমলকান্তির মত চেয়ে চেয়ে দেখতাম। এটা সবার চোখে পড়তো কিন্তু কেউ কিছু বলতো না। এক সময় এ ঘটনা পাড়ার মুরুব্বীদের কানে যায়। মুরুব্বিরা তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে অলিখিত ইস্তফা দেয় এবং ছোটদের কাঁধে তুলে দেয় এ গুরুদায়িত্ব।
সাময়িক গুরুদায়িত্ব পেয়ে ছোটরা তো বেশ খুশি। তারা খুশির ঠেলায় নিজপাড়ার গন্ডি ছড়িয়ে অন্যান্য পাড়া থেকে চাল-ডাল, টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে। যথারীতি সন্ধ্যার পরে খিচুড়ি রান্না করে, উপস্থিত সবার মাঝে বৈষম্যহীন ও সুষ্ঠুভাবে তবারক বিতরণ করে। ছোটরা যারা দায়িত্বে ছিল, তারা মানুষকে দেখায় তারা কষ্ট করবে, রান্না করবে ও খিচুড়ি বিতরণ করবে কিন্তু নিজেরা তাবারক নিবে না বা ভোগ করবে না। বড়রা সবাই অনুরোধ করলেও তারা কেউ প্রকাশ্যে তবারক নিতে রাজি হয় না (দেখায় আমরা কত সহি)। এতে গ্রামের সবাই খুব খুশি হয় অবশ্য কাশু ও রসু ছাড়া। এরপর থেকে ছোটরা ( যারা বেশিরভাগ কলেজ প্রথম বর্ষের ছাত্র) পরবর্তীতে ঈদে মিলাদুন্নবী আয়োজন এবং খিচুড়ি বিতরণের দায়িত্ব স্থায়ীভাবে পেয়ে যায়।
স্থায়ী দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের উৎসাহ বাঁধভাঙ্গা বন্যার মত আরও বেড়ে যায়। প্রতিবছর চাল ডাল টাকা পয়সা সংগ্রহ পরিমাণ বাড়তে থাকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির মত। এবার তারা চাণক্য নীতির মত কৌশল অবলম্বন করে। তারা কৌশল করে কিভাবে গ্রামের মানুষের চোখে ভাল থাকবে এবং নিজ দলের মানুষ বেশি বেশি খিচুড়ি খাবে।
তারা এ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, রান্নার পূর্বেই নিজেদের জন্য আলাদা করে সরিয়ে রাখে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল, ডাল এবং টাকা পয়সা। তারা চিন্তা করে ভাল দিন দেখে মুরগি চুরি করে , খিচুড়ি-মুরগি একসাথে মজা করে লোক চক্ষুর আড়ালে খাবে। এভাবেই তারা প্রতিবছর বৈষম্যহীন তবারক বিতরণ ব্যবস্থা চালু করে। যথারীতি প্রতিবছর খিচুড়ি বিতরণের সময় মানুষকে দেখায় যে তারা কোন খিচুড়ি নেয় না বা ভোগ করে না।
কাসু ও রাসু এখনও গ্রামে তাদের দুর্নাম ঘোচাতে পারেনি। কিন্তু ছোটরা বুদ্ধির জোরে চালাকি করে আজও তারা সমাজে ভালভাবে আছে। এভাবেই দুর্নীতি পরায়ণ কাসু ও রাসু যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং শুরু হয় লোক দেখান নতুন বৈষম্যহীন সমাজ।
বি: দ্র : এ লেখায় কোন রাজনৈতিক মিল খোঁজার চেষ্টা করবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ