দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাই ও ভাতিজার হামলার ৪২ দিন পর আহত শহিদুল বিশ্বাস (৬০) শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। শহিদুল ভুরকা পাড়া গ্রামের আসমতুল্লা বিশ্বাসের ছেলে। ঘটনাটি ঘটে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ির ভেতর দিয়ে পানি গড়ানোকে কেন্দ্র করে শহিদুল বিশ্বাসের সঙ্গে তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর (৫৫) ও ভাতিজা সুইট (২৮), সিয়াম (২৫) সহ আরও চারজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র, লাঠি, রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়। এতে শহিদুল বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। তার ডান চোখের পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে শহিদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ১৫ দিন আগে তিনি বাড়ি ফেরেন। তবে হামলার ঘটনার পরদিন, ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদুলের আরেক ভাই আকবর আলী (৫১) দৌলতপুর থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ১ মার্চ অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করে এবং কয়েকজনকে আটক করে। তবে বর্তমানে অভিযুক্তরা জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, “আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ডাক্তারি প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে আগেই একটি মামলা হয়েছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।” ছবি: শহিদুল বিশ্বাস।