ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অবহেলা-অযত্নে আজও কালীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর ৬৭টি বধ্যভূমি চাঁদাবাজি, ভূমি দখল সহ নানা অভিযোগে বিএনপি থেকে রফিজ উদ্দিন ও আনিছ বহিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ করলেন আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেশী দামে অকটেন বিক্রি, ক্রেতা সেজে ধরল ভ্রাম্যমাণ আদালত দৌলতপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঘর উত্তোলনের অভিযোগ তানোরে জ্বালানি সংকট, রাতের আঁধারে পাচারের অভিযোগ গৌরনদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত কম্বোডিয়া প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন॥ নওগাঁয় পদোন্নতিপ্রাপ্তদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম

তানোরে জ্বালানি সংকট, রাতের আঁধারে পাচারের অভিযোগ

ফাইল ছবি

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর পাম্প ও ডিপো মালিক রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা। উপজেলায় টানা প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত ডিজেল,পেট্রোল ও অকটেন সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকার অজুহাতে ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত ডিপোগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছে, দিনের বেলায় সংকট দেখালেও রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির করছে একশ্রেণীর পাম্প ও ডিপো।

এদিকে সব থেকে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। তেল সংকটের কারণে আলু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে মুন্ডুমালা মেসার্স বিশ্বাস পেট্রোল পাম্পের সামনে তেলের আশায় ভিড় করেন শত শত মানুষ ও মোটরসাইকেল আরোহী। কিন্তু বিকেলে স্টক শেষ হওয়ায় নোটিশ ঝুলিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেন পরে কেউ তেল পাননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। তবে এই একটি মাত্র পাম্প এখানো যাদের বিরুদ্ধে ওজনে কম, ভেজাল,রাতে পাচার বা তেল থাকার পরেও তেল বিক্রি না করার মতো কোনো অভিযোগ উঠেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চারটি পেট্রোল পাম্প ছাড়াও কয়েকটি অনুমোদিত তেলের ডিপো রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গভীর রাতে পাম্প ও ডিপোতে তেলের গাড়ি আসলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় গোপনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, আর দিনে দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে।তা না হলে খোলাবাজারে তেল পাচ্ছে কোথা থেকে। তবে পাম্প ও ডিপো মালিকগণ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় কৃষক, মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা মানুষও জ্বালানি সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩৫০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেল চালক রাব্বি আল আমিন বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে এটা স্পষ্ট কারসাজি। আরেক চালক মাহাবুর রহমান বলেন, “পাম্প-ডিপো সব বন্ধ। ৩০০ টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।আগে বেশি দামে খোলাবাজারে তেল পাওয়া গেলেও এখন তারাও প্রশাসনের ভয়ে তেল দিচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষক মোখলেস বলেন,এই সময় সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো।ওদিকে আলু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে আলু চাষিরা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়াও পরিবহন খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে, পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। চালক আব্বাস বলেন, “তেল না থাকলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন।”

এ বিষয়ে বিশ্বাস পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী খাইরুল আনাম বলেন, “মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন সরবরাহ না আসায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি যে তেল বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, বাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। “রাতে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অবহেলা-অযত্নে আজও কালীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর ৬৭টি বধ্যভূমি

তানোরে জ্বালানি সংকট, রাতের আঁধারে পাচারের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০২:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আলিফ হোসেন,তানোরঃ রাজশাহীর তানোরে প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর পাম্প ও ডিপো মালিক রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা। উপজেলায় টানা প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত ডিজেল,পেট্রোল ও অকটেন সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকার অজুহাতে ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত ডিপোগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছে, দিনের বেলায় সংকট দেখালেও রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির করছে একশ্রেণীর পাম্প ও ডিপো।

এদিকে সব থেকে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। তেল সংকটের কারণে আলু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে মুন্ডুমালা মেসার্স বিশ্বাস পেট্রোল পাম্পের সামনে তেলের আশায় ভিড় করেন শত শত মানুষ ও মোটরসাইকেল আরোহী। কিন্তু বিকেলে স্টক শেষ হওয়ায় নোটিশ ঝুলিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেন পরে কেউ তেল পাননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। তবে এই একটি মাত্র পাম্প এখানো যাদের বিরুদ্ধে ওজনে কম, ভেজাল,রাতে পাচার বা তেল থাকার পরেও তেল বিক্রি না করার মতো কোনো অভিযোগ উঠেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চারটি পেট্রোল পাম্প ছাড়াও কয়েকটি অনুমোদিত তেলের ডিপো রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গভীর রাতে পাম্প ও ডিপোতে তেলের গাড়ি আসলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশায় গোপনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, আর দিনে দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে।তা না হলে খোলাবাজারে তেল পাচ্ছে কোথা থেকে। তবে পাম্প ও ডিপো মালিকগণ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় কৃষক, মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা মানুষও জ্বালানি সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩৫০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেল চালক রাব্বি আল আমিন বলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে এটা স্পষ্ট কারসাজি। আরেক চালক মাহাবুর রহমান বলেন, “পাম্প-ডিপো সব বন্ধ। ৩০০ টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।আগে বেশি দামে খোলাবাজারে তেল পাওয়া গেলেও এখন তারাও প্রশাসনের ভয়ে তেল দিচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষক মোখলেস বলেন,এই সময় সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো।ওদিকে আলু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে আলু চাষিরা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়াও পরিবহন খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে, পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। চালক আব্বাস বলেন, “তেল না থাকলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন।”

এ বিষয়ে বিশ্বাস পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী খাইরুল আনাম বলেন, “মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন সরবরাহ না আসায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি যে তেল বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, বাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। “রাতে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।