ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারা থানা পুলিশের সফল অভিযান কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তুহিন গ্রেফতার মান্দায় টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ  ৫ মাদক কারবারি আটক রহমান ফিলিং স্টেশনের বে-রহম কান্ড ! রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে কৃষক ভেড়ামারায় ‘প্রকৃতি ফাইন আর্টস ক্যাডেট ও বৃত্তি কোচিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন তেল নিয়ে কারসাজি রাজশাহীর রহমান ফিলিং স্টেশনে দৌলতপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত দৌলতপুরে প্রভাবশালীদের তেল নেওয়া ঘিরে হট্টগোল, পুলিশ আহত রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও  রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন 

রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে কৃষক

রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে কৃষক

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। জ্বালানি তেল সঙ্কটের কারণে পরিবহন সঙ্কটের পাশাপাশি বেড়েছে ভাড়া।এতে আলু চাষিরা আলু উত্তোলন নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। তিনগুণ বেড়েছে বস্তার দাম, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে দেড়গুণ। অথচ বাজারে আলুর দাম নাই। যেখানে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৮ টাকা, সেখানে মাঠে মাঠে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকায়।গত বছরেও আলু চাষ করে কৃষক মুলধন হারিয়েছে।এসব কারনে প্রতিনিয়ত আলু চাষে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ কমছে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে গুনতে তারা বাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।এ জন্য স্থানীয় উন্নত বাজার ব্যবস্থা না থাকাকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।এভাবে চলতে থাকলে আগামিতে আর কৃষকেরা আলু চাষ করবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল।গত মৌসুমে কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।অন্যদিকে তানোরে আলু
চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে  ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম।গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। অন্যদিকে ইরি-বোরো চাষ নিয়েও কৃষকদের শঙ্কা।জ্বালানি তেলের অপ্রল্যতায় সেচ সঙ্কট ও সার সঙ্কটে পড়ে তারা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে উঠেছে।
ওদিকে তানোরে চলতি মৌসুমে
বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৪৫০ হেক্টর এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা  প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন।তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশী জমিতে বোরো চাষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পেঁয়াজ চাষ করেও কৃষকেরা লোকসান গুনছে। রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার ৮১৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।চাষ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০৮ হেক্ট জমিতে। এর আগে রাজশাহীতে এত পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়নি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায় (কেজি ২৫-৩০ টাকা)। মৌসুমের শুরুতে ওঠা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭০০-৮০০ টাকায় (কেজি ১৭-২০ টাকা)। অথচ ইজারা নেয়া জমিতে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।
তানোরের  তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) কালনা এলাকার আলু চাষি হাবিবুর রহমান বলেন,গত বছর ৬০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ১৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো লোকসানের মুখে পড়েছেন।অপর আলু চাষি মাহাবুর রহমান বলেন,গত বছর ৮ বিঘা আলু চাষ করে তার প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন।এবারো লোকসানের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,
কৃষকের কান্না কেউ শুনছে না ? কৃষকের যন্ত্রণা কেউ কোনোদিন ঠিকভাবে বুঝল না। যারা দেশের মানুষের পেট ভরাচ্ছে, তাদেরই পেটে লাথি মারা হচ্ছে।অথচ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত।তাদের পিছিয়ে রেখে উন্নয়নের কথা বলা কতটা বাস্তব ?
ডিলারদের কাছে সারের সংঙ্কট, অথচ খোলা-বাজারে সেই সার বেশি দাম দিলেই পাওয়া যাচ্ছে।এটা শুধু সমস্যা না, এটা কৃষকের সঙ্গে অন্যায়।কারণ কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, অথচ চাষ করতে গিয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে,শ্রমিকের মজুরী বেড়েছে, পরিবহন খরচ ও সেচের দাম বেড়েছে, তাহলে কৃষক বাঁচবে কিভাবে ? কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষক ভালো থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।সচেতন মহলের ভাষ্য, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক, সার ও তেল সংকট দূর হোক, দুর্নীতি বন্ধ হোক। কৃষকের মুখে হাসি ফুটুক, তবেই সত্যিকারের হাসবে বাংলাদেশ।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারা থানা পুলিশের সফল অভিযান কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তুহিন গ্রেফতার

রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে কৃষক

আপডেট টাইম : ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে কৃষক

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী অঞ্চলে সঙ্কটের বেড়াজালে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। জ্বালানি তেল সঙ্কটের কারণে পরিবহন সঙ্কটের পাশাপাশি বেড়েছে ভাড়া।এতে আলু চাষিরা আলু উত্তোলন নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। তিনগুণ বেড়েছে বস্তার দাম, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে দেড়গুণ। অথচ বাজারে আলুর দাম নাই। যেখানে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৮ টাকা, সেখানে মাঠে মাঠে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকায়।গত বছরেও আলু চাষ করে কৃষক মুলধন হারিয়েছে।এসব কারনে প্রতিনিয়ত আলু চাষে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ কমছে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে গুনতে তারা বাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।এ জন্য স্থানীয় উন্নত বাজার ব্যবস্থা না থাকাকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।এভাবে চলতে থাকলে আগামিতে আর কৃষকেরা আলু চাষ করবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল।গত মৌসুমে কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।অন্যদিকে তানোরে আলু
চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে  ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম।গত মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ১১৫ হেক্টর। অন্যদিকে ইরি-বোরো চাষ নিয়েও কৃষকদের শঙ্কা।জ্বালানি তেলের অপ্রল্যতায় সেচ সঙ্কট ও সার সঙ্কটে পড়ে তারা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে উঠেছে।
ওদিকে তানোরে চলতি মৌসুমে
বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৪৫০ হেক্টর এবং ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা  প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন।তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশী জমিতে বোরো চাষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পেঁয়াজ চাষ করেও কৃষকেরা লোকসান গুনছে। রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার ৮১৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।চাষ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০৮ হেক্ট জমিতে। এর আগে রাজশাহীতে এত পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়নি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায় (কেজি ২৫-৩০ টাকা)। মৌসুমের শুরুতে ওঠা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭০০-৮০০ টাকায় (কেজি ১৭-২০ টাকা)। অথচ ইজারা নেয়া জমিতে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।
তানোরের  তালন্দ ইউনিয়নের (ইউপি) কালনা এলাকার আলু চাষি হাবিবুর রহমান বলেন,গত বছর ৬০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ১৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবারো লোকসানের মুখে পড়েছেন।অপর আলু চাষি মাহাবুর রহমান বলেন,গত বছর ৮ বিঘা আলু চাষ করে তার প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।এবার তিনি মাত্র ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন।এবারো লোকসানের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,
কৃষকের কান্না কেউ শুনছে না ? কৃষকের যন্ত্রণা কেউ কোনোদিন ঠিকভাবে বুঝল না। যারা দেশের মানুষের পেট ভরাচ্ছে, তাদেরই পেটে লাথি মারা হচ্ছে।অথচ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত।তাদের পিছিয়ে রেখে উন্নয়নের কথা বলা কতটা বাস্তব ?
ডিলারদের কাছে সারের সংঙ্কট, অথচ খোলা-বাজারে সেই সার বেশি দাম দিলেই পাওয়া যাচ্ছে।এটা শুধু সমস্যা না, এটা কৃষকের সঙ্গে অন্যায়।কারণ কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, অথচ চাষ করতে গিয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে,শ্রমিকের মজুরী বেড়েছে, পরিবহন খরচ ও সেচের দাম বেড়েছে, তাহলে কৃষক বাঁচবে কিভাবে ? কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষক ভালো থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।সচেতন মহলের ভাষ্য, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক, সার ও তেল সংকট দূর হোক, দুর্নীতি বন্ধ হোক। কৃষকের মুখে হাসি ফুটুক, তবেই সত্যিকারের হাসবে বাংলাদেশ।