ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফিরোজ কবির ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ চলছে অনলাইন প্রতারণা, প্রতারণার শিকার হয়েছে কম্বোডিয়া হাজারো প্রবাসী ​মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা, হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে চাচি রাজশাহীতে জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫ ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ’৯২ ব্যাচের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশের সবার জন্য -জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্রি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গৌরনদীতে পরিদর্শনে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘোড়াঘাটে পল্লী বিকাশ সহায়ক সংস্থার আয়োজনে ঈদ সামগ্রী বিতরণ লালপুরে সিমেন্টের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় কৃষকের প্রতিবাদ, নির্মম পিটুনিতে ৬ দিন পর মৃত্যু” বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত

স্বামী-সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর চিঠি

রেজা মাহমুদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: সুখের সংসার রচনা করতে ভালবেসে ভালোবাসার ও পছন্দের প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করেন আফসা নাজ। পাঁচ বছর আগে বেছে নেওয়া জীবনসঙ্গী স্বামী-সংসারের ভালোবাসা ও অধিকার থেকে আজ তিনি বঞ্চিত। জীবনসঙ্গী স্বামীর বাড়িতে পড়ে থাকলেও তাঁর পাশে নেই স্বামী।

এখন সুখের সংসারে নেমে এসেছে কালো মেঘের ঘনঘটা। তাই ওই গৃহবধূ তাঁর স্বামী ও সুখের সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন অসহায় গৃহবধূর এভাবে আর্তি জানিয়ে চিঠি পাঠানো বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হাওয়ালদারপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিনের মেয়ে আফসা নাজ।

পাঁচ বছর আগে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অনার্স-এ অর্থনীতে বিষয়ে অধ্যয়নকালে সহপাঠীকে ভালবেসে বিয়ে করেন। একই শহরের নতুন বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী আকতার হোসেনের ছেলে রিজওয়ান আকতারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিগত ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় তাঁর। স্বামীকে নিয়ে ভালো কাটছিল তার সুখের সংসার।

এরই মধ্যে সংসার জীবনে আকস্মিক আসে এক প্রবল ঝড়। স্বামী রিজওয়ান আকতার ভালবেসে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ আফসা নাজের নামে বিভিন্ন অপবাদ তুলে গত ৭ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে এক তরফা তালাক দেন। আর সেই এক তরফা তালাকে নোটিশ পাঠানো হয় নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সালিশী আদালতে।পরবর্তীতে পৌরসভার মেয়রের সালিশী আদালত নোটিশ করে উভয় পক্ষকে সালিশে ডাকেন।

গত ১৮ এপ্রিলের সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়রের সালিশে গৃহবধূ আফসা নাজ ও তাঁর স্বামী ছাড়াও উভয় পক্ষের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দি নেয়া হয়। এ সময় পৌরসভার সালিশে গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোন সত্যতা না পেয়ে -স্ত্রীর আফসা নাজকে স্বামী কর্তৃক দেওয়া এক তরফা তালাক নোটিশ অকার্যকর করা হয়।

সেই সঙ্গে আফসা নাজ ও রিজওয়ান আকতারের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিদ্যমান রাখেন আদালত। ওই দিনই সৈয়দপুর পৌর পরিষদ গৃহবধূকে তাঁর শ্বশুড় বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। এ ঘটনার পরেই স্বামী রিজওয়ান আকতার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে লাপাত্তা হন। সেই থেকে গৃহবধূ তাঁর শ্বশুর বাড়িতে স্বামী ছাড়াই একাকী অবস্থান করছেন।

তাঁর স্বামীর মুঠোফোনটিও একেবারে বন্ধ। তাঁর ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরাও কোন রকম মুখ খুলছেন না। উপরন্ত তাঁর পরিবারের কাছে স্বামীর ব্যাপারে জানতে চাইলে গৃহবধূর সঙ্গে করা হচ্ছে চরম দূর্ব্যবহার। এরপরও শুধু স্বামী ও সুখের সংসার ফিরে পেতে খেয়ে না খেয়ে গত প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বামীর বাড়ির চার দেয়ালে এক রকম বন্দীদশায় আছেন গৃহবধূ আফসা নাজ।

এমতাবস্থায় অনেকটাই নিরূপায় হয়ে গত ১৪ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গৃহবধূ আফসা নাজ তাঁর লেখা একটি চিঠি রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করেছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মা সম্বোধন করে সেই চিঠির প্রারম্ভে উল্লেখ করেছেন, শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় মা . . . আমার সালাম নিবেন।

কেমন আছেন মা? আমার এই লেখা চিঠিখানা জানি না আপানর হাতে কবে পৌঁছাবে বা আদৌ পৌঁছাবে কিনা? মায়ের হাতে হতভাগী মেয়ের চিঠিখানা যেনো পৌঁছে রাব্বুল আলামীনের কাছে এই দোয়াই করছি। সকলেই আপানকে স্যার বা আপা বলে ডাকে। আমি আপনাকে মা বলে ডাকলাম, আর এ জন্য আমাকে আপনি ক্ষমা করবেন।

সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদের স্থান হলো মা-বাবা। তাই আমার মমতাময়ী মাকেই মা বলে সম্বোধন করেছি। আপনিই আমার মা। আমি জানি না আমার মা আমার চিঠিখানা পড়তে গিয়ে কতকিছু ভাবছেন। শত ব্যস্ততার মাঝে আমার চিঠিখানা পড়ছেন বা অযথা সময় নষ্ট করছেন- এমনটি ভাবতে পারেন।

কিন্তু আপনার মেয়ে যে আজ বড় অসহায় হয়ে চিঠিখানা লিখছি। তাই তিলে তিলে মরে যাওয়ার আগে আমার মাকে সব কথা বলে যেতে চাই। সমাজের দুষ্ট চরিত্রের মানুষের সংস্পর্শে জড়িতে আমার স্বামীকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, একা একা লড়েছি। কিন্তু আর পারছি না মা। দু’মাস থেকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী। একাকী জীবনযাপন। শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের কাছে আমি এখন বেহায়া হিসেবে পরিগণিত হয়েছি। স্বামী এখন কোথায় তা আমি জানি না।

মুঠোফোন বন্ধ। জানতে চাইলে আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার কেউ করে না। আমার খুব ভয় হয় মা। এভাবে যুদ্ধ করতে করতে পারজিত সৈনিকের মতো একদিন কি আমার নিথর দেহটা মাটিতে পড়ে থাকবে ? আমি পিত্রালয়ে যেতে চাই না। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে সংসার গোছাতে চাই। আমার স্বামীকে ফিরে পাবো কি মা?

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফিরোজ কবির ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

স্বামী-সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর চিঠি

আপডেট টাইম : ০৪:৫৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুন ২০২১

রেজা মাহমুদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: সুখের সংসার রচনা করতে ভালবেসে ভালোবাসার ও পছন্দের প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করেন আফসা নাজ। পাঁচ বছর আগে বেছে নেওয়া জীবনসঙ্গী স্বামী-সংসারের ভালোবাসা ও অধিকার থেকে আজ তিনি বঞ্চিত। জীবনসঙ্গী স্বামীর বাড়িতে পড়ে থাকলেও তাঁর পাশে নেই স্বামী।

এখন সুখের সংসারে নেমে এসেছে কালো মেঘের ঘনঘটা। তাই ওই গৃহবধূ তাঁর স্বামী ও সুখের সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন অসহায় গৃহবধূর এভাবে আর্তি জানিয়ে চিঠি পাঠানো বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হাওয়ালদারপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিনের মেয়ে আফসা নাজ।

পাঁচ বছর আগে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অনার্স-এ অর্থনীতে বিষয়ে অধ্যয়নকালে সহপাঠীকে ভালবেসে বিয়ে করেন। একই শহরের নতুন বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী আকতার হোসেনের ছেলে রিজওয়ান আকতারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিগত ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় তাঁর। স্বামীকে নিয়ে ভালো কাটছিল তার সুখের সংসার।

এরই মধ্যে সংসার জীবনে আকস্মিক আসে এক প্রবল ঝড়। স্বামী রিজওয়ান আকতার ভালবেসে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ আফসা নাজের নামে বিভিন্ন অপবাদ তুলে গত ৭ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে এক তরফা তালাক দেন। আর সেই এক তরফা তালাকে নোটিশ পাঠানো হয় নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সালিশী আদালতে।পরবর্তীতে পৌরসভার মেয়রের সালিশী আদালত নোটিশ করে উভয় পক্ষকে সালিশে ডাকেন।

গত ১৮ এপ্রিলের সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়রের সালিশে গৃহবধূ আফসা নাজ ও তাঁর স্বামী ছাড়াও উভয় পক্ষের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দি নেয়া হয়। এ সময় পৌরসভার সালিশে গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর আনিত অভিযোগের বিষয়ে কোন সত্যতা না পেয়ে -স্ত্রীর আফসা নাজকে স্বামী কর্তৃক দেওয়া এক তরফা তালাক নোটিশ অকার্যকর করা হয়।

সেই সঙ্গে আফসা নাজ ও রিজওয়ান আকতারের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিদ্যমান রাখেন আদালত। ওই দিনই সৈয়দপুর পৌর পরিষদ গৃহবধূকে তাঁর শ্বশুড় বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। এ ঘটনার পরেই স্বামী রিজওয়ান আকতার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে লাপাত্তা হন। সেই থেকে গৃহবধূ তাঁর শ্বশুর বাড়িতে স্বামী ছাড়াই একাকী অবস্থান করছেন।

তাঁর স্বামীর মুঠোফোনটিও একেবারে বন্ধ। তাঁর ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরাও কোন রকম মুখ খুলছেন না। উপরন্ত তাঁর পরিবারের কাছে স্বামীর ব্যাপারে জানতে চাইলে গৃহবধূর সঙ্গে করা হচ্ছে চরম দূর্ব্যবহার। এরপরও শুধু স্বামী ও সুখের সংসার ফিরে পেতে খেয়ে না খেয়ে গত প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বামীর বাড়ির চার দেয়ালে এক রকম বন্দীদশায় আছেন গৃহবধূ আফসা নাজ।

এমতাবস্থায় অনেকটাই নিরূপায় হয়ে গত ১৪ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গৃহবধূ আফসা নাজ তাঁর লেখা একটি চিঠি রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করেছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মা সম্বোধন করে সেই চিঠির প্রারম্ভে উল্লেখ করেছেন, শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় মা . . . আমার সালাম নিবেন।

কেমন আছেন মা? আমার এই লেখা চিঠিখানা জানি না আপানর হাতে কবে পৌঁছাবে বা আদৌ পৌঁছাবে কিনা? মায়ের হাতে হতভাগী মেয়ের চিঠিখানা যেনো পৌঁছে রাব্বুল আলামীনের কাছে এই দোয়াই করছি। সকলেই আপানকে স্যার বা আপা বলে ডাকে। আমি আপনাকে মা বলে ডাকলাম, আর এ জন্য আমাকে আপনি ক্ষমা করবেন।

সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদের স্থান হলো মা-বাবা। তাই আমার মমতাময়ী মাকেই মা বলে সম্বোধন করেছি। আপনিই আমার মা। আমি জানি না আমার মা আমার চিঠিখানা পড়তে গিয়ে কতকিছু ভাবছেন। শত ব্যস্ততার মাঝে আমার চিঠিখানা পড়ছেন বা অযথা সময় নষ্ট করছেন- এমনটি ভাবতে পারেন।

কিন্তু আপনার মেয়ে যে আজ বড় অসহায় হয়ে চিঠিখানা লিখছি। তাই তিলে তিলে মরে যাওয়ার আগে আমার মাকে সব কথা বলে যেতে চাই। সমাজের দুষ্ট চরিত্রের মানুষের সংস্পর্শে জড়িতে আমার স্বামীকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, একা একা লড়েছি। কিন্তু আর পারছি না মা। দু’মাস থেকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী। একাকী জীবনযাপন। শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের কাছে আমি এখন বেহায়া হিসেবে পরিগণিত হয়েছি। স্বামী এখন কোথায় তা আমি জানি না।

মুঠোফোন বন্ধ। জানতে চাইলে আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার কেউ করে না। আমার খুব ভয় হয় মা। এভাবে যুদ্ধ করতে করতে পারজিত সৈনিকের মতো একদিন কি আমার নিথর দেহটা মাটিতে পড়ে থাকবে ? আমি পিত্রালয়ে যেতে চাই না। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে সংসার গোছাতে চাই। আমার স্বামীকে ফিরে পাবো কি মা?