ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ তালা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে ধর্ষণে  প্রতিবন্ধী অন্তস্বত্বা ২২ ধারার পর গ্রেপ্তার আরো দুই  নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুল বনাম ডা. এম.এ. রেজা উচ্চ বিদ্যালয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা ভেড়ামারায় আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে তেল মজুদের অভিযোগ: আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনও’র ‎ নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা স্বল্প আয়ের মানুষ  সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় তদন্ত ছাড়া মামলা রেকর্ড, হয়রানি শিকার নিরীহ ব্যক্তি: নেপথ্যে এ. এস. আই ফায়াজ

ঘোড়াঘাটে ভূয়া ডিবির প্রতারণার ফাঁদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা

ঘোড়াঘাটে ভূয়া ডিবির প্রতারণার ফাঁদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রতারক চক্রটি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে ফোন করে সন্তানকে মাদক মামলায় আটক করার ভয় দেখিয়ে অন্তত তিনজন শিক্ষকের নিকট থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই কৌশলে সবার নিকট ফোন করা হলে অনেকেই সচেতন হওয়ায় এ প্রতারণার ফাঁদে পড়েননি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষকদেরকে ফোন করে দাবি করেন, তাদের সন্তানকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। এখন মাদক মামলা থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে, অন্যথায় তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। সন্তানদের নাম-পরিচয় জানিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে আতঙ্কের সুযোগ নেয় চক্রটি।
প্রতারকদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। এছাড়া নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম ৪১ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাই ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী। তাদের অভিযোগ, প্রতারকরা সন্তানদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই কৌশলে তাদের কাছ থেকেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা টাকা পাঠাননি।
প্রতারণার শিকার প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার বলেন, “আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে। ফোনে বলা হয়, তাকে ২১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে বলে কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠাই। পরে বুঝতে পারি, এটি প্রতারণা।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, “উপজেলা জুড়েই প্রধান শিক্ষকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও ও থানাকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোন পেলে কেউ যেন আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি

ঘোড়াঘাটে ভূয়া ডিবির প্রতারণার ফাঁদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা

আপডেট টাইম : ০৮:১৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ঘোড়াঘাটে ভূয়া ডিবির প্রতারণার ফাঁদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রতারক চক্রটি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে ফোন করে সন্তানকে মাদক মামলায় আটক করার ভয় দেখিয়ে অন্তত তিনজন শিক্ষকের নিকট থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই কৌশলে সবার নিকট ফোন করা হলে অনেকেই সচেতন হওয়ায় এ প্রতারণার ফাঁদে পড়েননি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষকদেরকে ফোন করে দাবি করেন, তাদের সন্তানকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। এখন মাদক মামলা থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে, অন্যথায় তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। সন্তানদের নাম-পরিচয় জানিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে আতঙ্কের সুযোগ নেয় চক্রটি।
প্রতারকদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। এছাড়া নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম ৪১ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাই ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী। তাদের অভিযোগ, প্রতারকরা সন্তানদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই কৌশলে তাদের কাছ থেকেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা টাকা পাঠাননি।
প্রতারণার শিকার প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার বলেন, “আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে। ফোনে বলা হয়, তাকে ২১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে বলে কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠাই। পরে বুঝতে পারি, এটি প্রতারণা।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, “উপজেলা জুড়েই প্রধান শিক্ষকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও ও থানাকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোন পেলে কেউ যেন আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।