ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাজশাহীর পবায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক নাসীরুদ্দীনকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করুন, বিএনপি সহযোগিতা করবে : রাশেদ খান জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, সেখানেও গালি খাই: পরিমনি দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করতে ছাগল বিতরণ তালা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে ধর্ষণে  প্রতিবন্ধী অন্তস্বত্বা ২২ ধারার পর গ্রেপ্তার আরো দুই  নাগরপুর শহীদ ক্যাডেট স্কুল বনাম ডা. এম.এ. রেজা উচ্চ বিদ্যালয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

তানোরে খাল পুনঃখননে ‘সাগর চুরি’ শিরোনামে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

তানোরে খাল পুনঃখননে ‘সাগর চুরি’ শিরোনামে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

প্রতিনিধি (তানোর) রাজশাহীঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা জুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প কাজের ভাইরাল ভিডিও।স্থানীয়দের ভাষায়,’খাল খননের নামে চলছে রীতিমতো খাল ডাকাতি।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে উঠে এসেছে খাল পুনঃখনন  খননকাজে ভয়াবহ অনিয়ম সরকারি অর্থ লোপাটের চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিজ্ঞ মহলের মতামত বা কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করেই খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।যেভাবে খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে তাতে খাল কৃষকদের কোনো উপকারেই আসবে না বরং ক্ষেত্র বিশেষে খালের দুপাশে অকাল জলাবদ্ধতায় অনেক জমির ফসল হানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।কারণ আগে ছিলো খাল,এখন হচ্ছে খাড়ি।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকেরা বলছে,
উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) গাগরন্দ-দেওতলা-আজিপুর প্রায় তিন কিলোমিটার খাড়ি পুনঃখনন প্রকল্পে (সিডিউল) বহির্ভূতভাবে কাজ করছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, খাল পুনঃখননের পরিবর্তে খালের পাড় কেটে ট্রাক্টরে করে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আর খালের পাশে সামান্য মাটি ফেলে সেটিকে “লেভেলিং” দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকার কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি গোষ্ঠী।আর এসব মাটি পরিবহণ করতে গিয়ে এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা নস্ট ও পরিবেশ দুষণ করা হচ্ছে।এছাড়াও শুস্ক মৌসুম পেরিয়ে বর্ষা মৌসুমে খাল পুনঃখনন কাজ করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।কারণ এখন বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমবে তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলবে তারা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেছেন।তাই বর্ষা মৌসুমে খাল পুনঃখনন কাজ না করায় শ্রেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা কোনোটিই সিডিউল অনুযায়ী মানা হচ্ছে না। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি খাল পুনঃখনন, নাকি প্রভাবশালীদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা ?
এদিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বড় প্রকল্পের কাজ চললেও সেখানে নেই কোনো তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড। কোথাও উল্লেখ করা হয়নি প্রকল্পের ব্যয়, খালের পরিমাপ, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা কাজের সময়সীমা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ
আরো বেড়েছে। তাদের ভাষায়, “অন্ধকারে খাল খননের নামে চলছে খাল ডাকাতি ?
অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়, প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বাস্তবায়ন করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হচ্ছে এবং এর ভাগ যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের পকেটে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষি নির্ভর এলাকার পানি প্রবাহ সচল ও জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নেয়া এই প্রকল্প যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে একদিকে যেমন জনগণের অর্থ অপচয় হবে, অন্যদিকে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকেও বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এবিষয়ে এসকেএস ফাউন্ডেশন তানোরের দায়িত্বরত প্রকৌশলী অনুপ কুমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,নিয়মমাফিক কাজ হচ্ছে,তিনি বলেন,কাজ সম্পন্ন হলেই তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হবে।তিনি বলেন, মাটি বিক্রির বিষয়টি তার জানা নাই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রকল্পটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাল পুনঃখননের প্রকৃত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া  গুলিতে ১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

তানোরে খাল পুনঃখননে ‘সাগর চুরি’ শিরোনামে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

আপডেট টাইম : ১০:৩২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

তানোরে খাল পুনঃখননে ‘সাগর চুরি’ শিরোনামে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

প্রতিনিধি (তানোর) রাজশাহীঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা জুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প কাজের ভাইরাল ভিডিও।স্থানীয়দের ভাষায়,’খাল খননের নামে চলছে রীতিমতো খাল ডাকাতি।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে উঠে এসেছে খাল পুনঃখনন  খননকাজে ভয়াবহ অনিয়ম সরকারি অর্থ লোপাটের চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিজ্ঞ মহলের মতামত বা কোনো সাম্ভব্যতা যাচাই না করেই খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।যেভাবে খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে তাতে খাল কৃষকদের কোনো উপকারেই আসবে না বরং ক্ষেত্র বিশেষে খালের দুপাশে অকাল জলাবদ্ধতায় অনেক জমির ফসল হানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।কারণ আগে ছিলো খাল,এখন হচ্ছে খাড়ি।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকেরা বলছে,
উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) গাগরন্দ-দেওতলা-আজিপুর প্রায় তিন কিলোমিটার খাড়ি পুনঃখনন প্রকল্পে (সিডিউল) বহির্ভূতভাবে কাজ করছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, খাল পুনঃখননের পরিবর্তে খালের পাড় কেটে ট্রাক্টরে করে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আর খালের পাশে সামান্য মাটি ফেলে সেটিকে “লেভেলিং” দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকার কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি গোষ্ঠী।আর এসব মাটি পরিবহণ করতে গিয়ে এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা নস্ট ও পরিবেশ দুষণ করা হচ্ছে।এছাড়াও শুস্ক মৌসুম পেরিয়ে বর্ষা মৌসুমে খাল পুনঃখনন কাজ করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।কারণ এখন বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমবে তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলবে তারা সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেছেন।তাই বর্ষা মৌসুমে খাল পুনঃখনন কাজ না করায় শ্রেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা কোনোটিই সিডিউল অনুযায়ী মানা হচ্ছে না। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি খাল পুনঃখনন, নাকি প্রভাবশালীদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা ?
এদিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বড় প্রকল্পের কাজ চললেও সেখানে নেই কোনো তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড। কোথাও উল্লেখ করা হয়নি প্রকল্পের ব্যয়, খালের পরিমাপ, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা কাজের সময়সীমা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ
আরো বেড়েছে। তাদের ভাষায়, “অন্ধকারে খাল খননের নামে চলছে খাল ডাকাতি ?
অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়, প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বাস্তবায়ন করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হচ্ছে এবং এর ভাগ যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের পকেটে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষি নির্ভর এলাকার পানি প্রবাহ সচল ও জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নেয়া এই প্রকল্প যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে একদিকে যেমন জনগণের অর্থ অপচয় হবে, অন্যদিকে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকেও বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এবিষয়ে এসকেএস ফাউন্ডেশন তানোরের দায়িত্বরত প্রকৌশলী অনুপ কুমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,নিয়মমাফিক কাজ হচ্ছে,তিনি বলেন,কাজ সম্পন্ন হলেই তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হবে।তিনি বলেন, মাটি বিক্রির বিষয়টি তার জানা নাই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রকল্পটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাল পুনঃখননের প্রকৃত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন